অনেক দিন আগের কথা। নরওয়ের এক সুন্দর গ্রাম। সেই গ্রামে ছিল দারুণ বুদ্ধিমান এক কিশোর। একদিন গাঁয়ের রাস্তা দিয়ে আনমনে হাঁটছিল সে। আচমকা দেখে, রাস্তাজুড়ে কেবল বাদাম আর বাদাম। পোকায়-খাওয়া একটি বাদাম তুলে নেয় সে। অমনি তার সামনে হাজির হয় এক বিশাল দৈত্য।
দৈত্যকে শুধোয় সে, ‘গাঁয়ের মানুষের কথা কি আসলেই সত্য! তুমি নাকি নিজের শরীরটাকে ইচ্ছেমতো বদলাতে পার। দেখাও না, তোমার জাদুকরী ক্ষমতা।’
দৈত্য বিকট-গলায় বলে, ‘হ্যাঁ।’
কিশোর চ্যালেঞ্জের সুরে বলে, ‘বাদামটার ভেতর ঢোকো তো।’
দৈত্যের আর দেরি সয় না। নিমিষেই খোসা পেরিয়ে বাদামে ঢুকে পড়ে। সেই সুযোগে কিশোর পোকায়-খাওয়া জায়গায় একটি ছোট্ট ডাল গুঁজে দেয়। আর খুশি-গলায় বলে, তুমি এখন আমার হাতের মুঠোয়। তারপর বাদামটি তার জামার পকেটে রাখে।
গাঁয়ের অনেক রাস্তা হেঁটে কিশোর এক কামারশালায় আসে। কামারকে বলে, ‘বাদামটার খোসা ছাড়াবার যন্ত্রপাতি আছে নিশ্চয়!’
কামার উত্তর দেয়, ‘এ তো ভারি সহজ কাজ।’ তারপর ছোট্ট হাতুড়ি দিয়ে বাদামটায় আঘাত করে। বাদামটি তেমনই থাকে। নিরুপায় কামার বড় হাতুড়ি তুলে নেয়। এটাও বাদাম ভাঙার উপযুক্ত নয়। কামার ভীষণ রেগে যায়। দুই হাতে তুলে নেয় কামারশালার সবচেয়ে বড় হাতুড়িটা। এবার নিশ্চয়ই বাদামটার খোসা ভাঙবে! হাতুড়ির পিটুনিতে কামারশালার ছাদ-মেঝে কেঁপে ওঠে। কিন্তু বাদামের খোসায় কোনো আঁচড় পড়ে না।
শেষমেষ কামার কিশোরকে বলে, ‘বাদামটার ভেতর দৈত্য আছে।’
বালকের উত্তর, ‘আমারও তাই মনে হয়।’
রূপান্তর :কুতুব আজাদ