অন্তিক মাহমুদের অ্যানিমেশন দুনিয়া

কার্টুনিস্ট হিসেবে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন অন্তিক মাহমুদ। ইউটিউবে নিজের চ্যানেলে টু-ডি অ্যানিমেশন কার্টুন নির্মাণ করে বহুবার প্রশংসিত হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি একাধারে কার্টুনিস্ট, টুডি অ্যানিমেটর এবং ইউটিউবার। কাজ করেছেন কার্টুন পিপল, টেন মিনিট স্কুলসহ দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন পত্রিকায়। ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করেন নিজের ‘Antik Animated Studio’ নিয়ে। তার গল্প জানাচ্ছেন গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত

 

প্রশংসা কুড়াচ্ছে শূন্য ব্যান্ডের ‘বেহুলা’ গানটি

ইউটিউবে ২৪ হাজারের বেশি মন্তব্য এসেছে গানটিতে, ভিউ ছাড়িয়েছে ১ কোটির অধিক। লাইক পড়েছে ৩ লাখের বেশি। অ্যানিমেশন— ‘Antik Animated Studio’ গানটির ডেসক্রিপশনে ছোট করে লেখা। দর্শক গানের প্রশংসার পাশাপাশি ইউটিউবে মন্তব্য করছে অন্তিক মাহমুদের তৈরি করা অ্যানিমেশন নিয়েও। অন্তিক ছোটবেলা থেকেই শূন্য ব্যান্ডের বিশাল ভক্ত। শূন্য ব্যান্ডের  ‘শত আশা’ গানটি কোনো কারণে শোনা হয়নি। একদিন এই অনুষ্ঠানে হঠাত্ করেই শুনেন গানটি। পরে ইউটিউব সার্চ করে দেখেন এই গানের কোনো মিউজিক ভিডিও নেই! বলতে গেলে এক রকমের কষ্টই পান তিনি। পরে নিজের স্টুডিওতে একটা মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করে ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেন। সেটি ব্যান্ডের সদস্যদের নজরে আসে। এরপর তারাই যোগাযোগ করে। বেহুলা গানের সঙ্গে কাজ করার শুরুটা এভাবেই।

তিনি জানান, ‘আমি বুঝিনি মানুষ কাজটা এত পছন্দ করবে! সত্যি বলতে, আমি বেশ উপভোগ করছি। প্রত্যেকবার এক মিলিয়ন করে ভিউস ক্রস হয় আর আমাদের গ্রুপ চ্যাটে আমরা নাচানাচি করি! হাহাহা...!’

কলেজ লাইফ থেকে মারভেল, ডিসি কমিক্স আর মুভির অনেক বড় ফ্যান ছিলেন অন্তিক। সেখান থেকে এনিমেশনের প্রতি আগ্রহ জন্মে। কার্টুনও দেখতেন প্রচুর; পত্রিকায় কমিক্স আঁকতেন। ছোটবেলায় গল্প লিখতেন ডায়রিতে। গল্পে এক্সপ্রেশন আর পরিবেশ বোঝানোর জন্য কার্টুনের চেয়ে ভালো কোনো উপায় তার জানা ছিল না। আর সেখান থেকেই কার্টুন আঁকা শুরু। শুরুতে অয়েব কমিক্স আঁকতেন। কিছুই না, শুধু কমিক্সের ছবি মোবাইলে তুলে ফেসবুকের বিভিন্ন আর্ট গ্রুপে আপলোড দিতেন। অ্যানিমেশনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া কিভাবে জানতে চাইলে অন্তিক জানান, ‘থ্রিডি অ্যানিমেশন কোর্স করেছিলাম। ভিএফএক্স, সিজিআই’র প্রতি আমার খুব আকর্ষণ ছিল। কিন্তু পরে দেখি আমাকে দিয়ে এটা হবে না। কারণ আমি খুব কুইক কাজ জমা দেওয়ার পাবলিক। তাই একদিন আমার ফ্রেন্ডের জন্মদিনের জন্য একটা টু-ডি (তখন কাজ খুব কম পারতাম) অ্যানিমেশন ভিডিও বানিয়ে দেই। সবাই সেটা পছন্দ করে। পরে সেটিই চালিয়ে যাই। প্রতিটি অ্যানিমেশন কার্টুন নির্মাণের পেছনে অবশ্যই একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে এন্টারটেইনমেন্টের অংশটাও কমিয়ে দেওয়া যাবে না। এখন অবশ্য একটা ব্যালেন্সে আছে সবকিছু।’

এবার অমর একুশে বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার দুটি বই। এডভেঞ্চার থ্রিলার বই ‘তিন’, আর সুপারহিরো কমিক্স সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব ‘নোমান ২’। বেশ ভালো সাড়া পেয়েছেন। ইউটিউবে নিজের চ্যানেলে টুডি অ্যানিমেশন কার্টুন বানাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একশ’র অধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। সাড়ে তিন লাখের অধিক অনুসারী রয়েছে চ্যানেলটিতে। ২০১৬ সালে ইউটিউব চ্যানেলটি যাত্রা শুরু করে ইতিমধ্যে ২৭ লাখের অধিক বার মানুষ দেখেছে ভিডিওগুলো। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের অ্যানিমেশন স্টুডিও। পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান, ‘অন্তিক অ্যানিমেটেড স্টুডিও থেকে আমার অনেক পরিকল্পনা আছে। অধিকাংশ পরিকল্পনাই অ্যানিমেশন আর কমিকবুক কেন্দ্রিক। বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ করছি। এ বছরের পরিকল্পনায় রয়েছে ৬টি কমিকবুক প্রকাশ করার। অ্যানিমেশন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি কোর্স তৈরি করা হয়েছে আমার টেন মিনিট স্কুলের সঙ্গে। ভবিষ্যতে ইচ্ছা আছে কমিক্স নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করার।’ তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যারা টুডি অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছে আমি বলব আগে আঁকাআঁকিটা মোটামুটি রপ্ত করে নিতে হবে। নিজের একটা স্টাইল আনতে হবে। কাজগুলো ক্লিন করতে হবে। এরপর বাকিটা হয়ে যাবে।’ আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশে অনেক অ্যানিমেশন স্টুডিও থাকবে। ইন্ডাস্ট্রি ভালো গ্রো করবে। শুধু ধরে রাখলেই হলো।’