মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় গোমতী নদীর বাঁধের ভেতরের অংশের জলসীমার দুই পাশের বিস্তীর্ণ চরের কৃষিজমির মাটি কাটা থেমে নেই। করোনা ও লকডাউনের সুযোগে মাটি কাটা আরো বেড়ে গেছে। দেখা গেছে, ড্রেজার, ভেকু আর কোদাল ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নদীর অন্তত দুই শতাধিক স্পটে মাটি কাটা চক্র বেশ সক্রিয়। এতে বর্ষায় হুমকির মুখে পড়বে নদী রক্ষাবাঁধ। সম্প্রতি নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার ও ভেকু মেশিন জব্দসহ মাটি কাটা সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হয়েছে এবং একটি বড় ড্রেজার আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সূত্র ও নদী এলাকার স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুমিল্লা সূত্রে জানা যায়, গোমতীর ডান তীরে ৪১ কিলোমিটার ও বাম তীরে ৩৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার বন্যা ব্যবস্থাপনা বাঁধ রয়েছে। নদীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জানা যায়, সম্প্রতি গোমতী নদী ঘিরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাটি কাটা চক্র। জেলার আদর্শ সদর উপজেলার গোলাবাড়ি থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত নদীর টিক্কারচর, সংরাইশ, জালুয়াপাড়া, অরণ্যপুর, চাঁন্দপুর ব্রিজ এলাকা, কাপ্তানবাজার, পালপাড়া, আলেখারচর, বাবুর বাজার, শিমাইলখাড়া, বালিখাড়া, রামনগর, পূর্বহুড়া, নানুয়ার বাজার, মিথিলাপুর, বাহেরচর, শ্রীপুর, গোবিন্দপুর, শ্যামপুর, মালাপাড়া, মনোহরপুর, হাসনাবাদ, কংশনগর বাজার, রামচন্দ্রপুর, এদবারপুর, কাঁঠালিয়া, কিং-বাজেহুড়া, বাজেহুড়া, দেবিদ্বার ও মুরাদনগরের বিভিন্ন এলাকাসহ নদীর অন্তত দুই শতাধিক স্পটে মাটি কাটা চক্র বেশ সক্রিয়। এছাড়াও শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরযোগে বাসাবাড়ি, পুকুর ভরাট, ইটের ভাটাসহ নানা স্থানে মাটি সরবরাহ করছে। এতে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধসহ ঐসব এলাকার রাস্তাঘাটগুলো বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন জমির মালিক বলেন, ‘সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কিংবা জোর করে ভেকু কিংবা ড্রেজার দিয়ে জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে নদী এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি হ্রাস পাওয়ায় মাটি কাটা সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।’ পাউবো-কুমিল্লার অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, ‘পাউবোর পক্ষ থেকে গোমতী এলাকাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা এবং জিডি করেও নদীর চরের কৃষিজমির মাটি কাটা ঠেকানো যাচ্ছে না। তবে নদীর চর থেকে মাটি কাটা বন্ধে বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।’
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘গোমতী নদীর চরের কৃষিজমি রক্ষায় গত ২০ মার্চ থেকে দিনে-রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়ে আসছে। এ সময়ে জড়িতদের অনেককে আটক ও জরিমানাসহ মাটিবাহী গাড়ি, ভেকু ও ড্রেজারসহ মাটি কাটা সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হয়েছে। গত সোমবার নদীর আদর্শ সদর উপজেলার তিনটি স্পট থেকে সাতটি ড্রেজার ধ্বংস এবং একটি বড় ড্রেজার আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আমরা জিরো টলারেন্স দেখিয়ে গোমতীর চরের কৃষিজমি রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যাব।’