রংপুর মেডিক্যালে কমছে রোগী

করোনার প্রভাব

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লকডাউন পরিস্থিতিতে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। অনেক রোগী ঠিকমতো চিকিত্সাসেবা না পাওয়ায় হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি চলে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। আবার কেউ হাসপাতাল ছাড়ছেন করোনা আতঙ্কে। গত শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

দেখা গেছে, হাসপাতালের বেশির ভাগ ওয়ার্ডই ফাঁকা পড়ে আছে। হাসপাতালে ঢুকতেই চোখে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে এক রোগীকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন তার স্বজনরা। একটু কাছে গিয়ে রোগীর কথা জানতে চাইলে চিকিত্সাসেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জীবন মিয়া। তার বৃদ্ধ বাবা আহাদ আলীকে অসুস্থ অবস্থায় লালমনিরহাট সদরের তিস্তা মোস্তুফির হাট থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। জীবন মিয়া বলেন, হাসপাতালে যদি ঠিকমতো চিকিত্সা না পাই। রোগীর যদি কোনো উন্নতি না হয়, তাহলে হাসপাতালে থেকে কী লাভ? নার্স ও ইন্টার্ন চিকিত্সকরা করোনা আতঙ্কে রোগী দেখেন না। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে রোগীকে ভর্তি করিয়েছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার এলাকার নিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘দালালের কারণে হাসপাতালে রোগীর চিকিত্সার খরচ বেশি। কথায় কথায় বিভিন্ন পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়। সবকিছুই হাসপাতালের বাইরে থেকে করতে হয়।’ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা থেকে চিকিত্সা নিতে আসা বিউটি বেগম (৪০) বলেন, ‘কয়েক দিন হলো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। মাঝেমধ্যে ইন্টার্ন চিকিত্সকরা আসছেন। কিন্তু তারা ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি যেতে উত্সাহিত করছেন।’ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্টাফ নার্স এবং ওয়ার্ড ইনচার্জরা বলেন, ‘রোগীদের সঙ্গে আমরাও করোনা আতঙ্কে রয়েছি। কারণ সেবিকাদেরও ঠিকমতো নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। কঠোর বিধিনিষেধের কারণে রোগীর চাপ কমেছে। যেখানে সব সময় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকত। চিকিত্সা দিতে হিমশিম খেতে হতো। এখন রোগী অনেক কম। গত বছরও করোনা মহামারি শুরুর দিকে এমন অবস্থা হয়েছিল।’

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রেজাউল হক বলেন, ‘চিকিত্সা পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগ তো কেউ করেনি। তবে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি রোধে চিকিত্সক ও ইন্টার্নরা সমন্বয় করে কাজ করছেন। একসঙ্গে তাদের সবাই হাসপাতালে উপস্থিত থাকলে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া বিধিনিষেধের কারণে আগের মতো কম গুরুত্বপূর্ণ রোগীরা হাসাপাতালে ভর্তি হচ্ছেন না। এ কারণে রোগীর চাপ কম।’