লকডাউনে স্থবির চলচ্চিত্রাঙ্গন

গতবছরের প্রণোদনা এখনো পাননি শিল্পীরা!

আবারো দীর্ঘ সংকটে চলচ্চিত্রাঙ্গন! এবারের ঈদেও মুক্তি পাবে না কোনো ছবি। তাই সব মিলিয়ে আবারো নতুন করে সংকটে পড়তে যাচ্ছে ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলীরা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে চলমান লকডাউনে বন্ধ আছে সিনেমার শুটিং। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এফডিসির অতিরিক্ত শিল্পীরা। কাজ না থাকায় সিনেমার অতিরিক্ত শিল্পী, প্রোডাকশন বয়’সহ বিভিন্ন বিভাগের সহকারীদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। লকডাউনের চলাকালে এখন পর্যন্ত চলচ্চিত্রের কোনো সংগঠনই তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেনি। অথচ গতবছরের লকডাউনের সময় সিনেমার অনেক সংগঠন এসব কর্মহীন শিল্পী-কলাকুশলীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।

গতবছর লকডাউনের সময় আর্থিক প্রণোদনার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর ২৩১ জন কর্মহীন শিল্পী, কলাকুশলীর তালিকা পাঠানো হয়েছিল। এবার আবারো তালিকা হচ্ছে। কিন্তু বেশকিছু জটিলতার তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এ প্রসঙ্গে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘এটা ঠিক যে এবার আমরা এসব কর্মহীন শিল্পী-কলাকুশলীদের কোনো ধরনের সহায়তা করতে পারিনি। তবে গতবার

তাদের সহযোগিতা করেছিলাম। এতে সিনেমার অনেক মানুষের বিরাগভাজন হয়েছি। সেই অভিমান থেকেই এবার কিছু করিনি। কিন্তু কত অভিমান করে থাকবো। আগামী ৩ দিনের মধ্যে পরিচালক সমিতির সঙ্গে মিলে কিছু ব্যবস্থা করবো।’ তিনি আরো বলেন, ‘গতবছর লকডাউনের সময় তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর আর্থিক প্রণোদনার জন্য ২৩১ জন শিল্পী, কলাকুশলীর তালিকা জমা দিয়েছিলাম। পরে কিছু সমস্যা দেখা দিলে সেটা ঠিকঠাক করে আবার তালিকা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটি টাকাও পাইনি। তথ্য মন্ত্রণালয় কিছুই জানায়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের সবার অনুরোধ, এসব শিল্পীদের তালিকা অনুযায়ী প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করলে হয়তো তাদের বেঁচে থাকাটা সহজ হবে।’ পরিচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহীন সুমন বলেন, ‘আমরা এসব কর্মহীন শিল্পী-কলাকুশলীদের তালিকা করেছি। এখন একবার চাল, ডাল তেল জাতীয় কিছু দেবো। ঈদের আগে আরেকবার ভালো কিছু করবো আশা করছি।’ কর্মহীন হয়ে পড়া শিল্পীদের একজন শেফালী বলেন, ‘আমরা এখন কতটা খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সেটা বোঝাতে পারবো না। আগে এফডিসিতে এলে কাজ না থাকলেও পরিচিত অনেক প্রযোজক-পরিচালককে সালাম দিলেই কিছু টাকা পেতাম। লকডাউন ও করোনার কারণে সেটাও এখন বন্ হয়ে গেছে। লকডাউনে অনেকেই আসেন না এখানে। আমাদের পেটে লাথি পড়েছে। আগামী দিনগুলোতে কী হবে তাও বুঝতে পারছি না।’