রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয়নি ব্রাজিল

  বিবিসি ও রয়টার্স

ব্রাজিলের স্বাস্থ্যবিষয়ক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আনভিসা দেশটিতে রাশিয়ার তৈরি কোভিড টিকা স্পুিনক-ভি আমদানির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত লাতিন আমেরিকার দেশটিতে মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নররা টিকাটি আমদানির অনুরোধ করেছিলেন।

টিকাটির নিরাপত্তা, মান ও কার্যকারিতা সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতিকে উদ্ধৃত করে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা স্পুিনক-ভির ‘সহজাত ঝুঁকি’ ও ‘গুরুতর ত্রুটির’ ওপর আলোকপাত করার পর আনভিসার পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতিক্রমে টিকাটিকে অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উপস্থাপিত সব নথিপত্র, সশরীরে করা পরিদর্শনে প্রাপ্ত উপাত্ত এবং অন্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টিকাটির ‘সহজাত ঝুঁকি’ অনেক বেশি বলে মনে হয়েছে, বলেছেন স্বাস্থ্য নজরদারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনা ক্যারোলিনা মোরেইরা মারিনো আরুজো। ভ্যাকসিনে এডেনো ভাইরাসের উপস্থিতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, যা শরীরে পুনরুত্পাদিত হতে পারে; একে ‘গুরুতর ত্রুটি’ বলছেন আনভিসার মেডিসিনস অ্যান্ড বায়োলজিকাল প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপক গুস্তাভো ম্যান্ডেজ।

বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় তাদের নাগরিকদের দেহে স্পুিনক-ভি প্রয়োগে অনুমোদন দিয়েছে। মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউট ও রাশিয়ার ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গত সপ্তাহে বলেছে, ৩৮ লাখ মানুষের তথ্যে ‘বাস্তব জগত’ ভিত্তিক পর্যালোচনায় টিকাটি কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধ ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ কার্যকর বলে জানিয়েছেন রুশ বিজ্ঞানীরা। তবে আনভিসার মতো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও এখনো রাশিয়ার টিকাটিকে অনুমোদন দেয়নি। তারা টিকাটির বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা এবং উত্পাদন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত আরো তথ্য চেয়েছে।

দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহে ব্যর্থতা ও প্রয়োগে দেরির কারণে ব্রাজিলের টিকাদান কর্মসূচি অনেকটাই  ঝিমিয়ে পড়েছে। সংক্রমণের ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতির কারণে চলতি বছর বিশ্ব জুড়ে কোভিড-১৯-এর অন্যতম হটস্পটে পরিণত হওয়া দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও পতনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।