অনলাইন সংলাপে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
অবিলম্বে নগরের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের নাগরিকদের তালিকা তৈরি করে তাদের মধ্যে রেশনিং ও খাদ্যসহায়তার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বক্তারা। তারা বলেছেন, করোনা মহামারিতে পুরো পৃথিবী বিপর্যস্ত। দেশের নিম্ন আয়ের, এমনকি মধ্যবিত্তরাও সংকট মোকাবিলায় প্রচণ্ডভাবে হিমশিম খাচ্ছে। ৪০ লাখ নিম্ন আয়ের মানুষের ঢাকা শহরের এই দীর্ঘ লকডাউনে সংকট চরমে পৌঁছেছে। এই মানুষদের আয় নেই, নেই বেঁচে থাকার অবলম্বন। তাই অতি দ্রুত সরকারের এই শ্রেণিকে রক্ষার জন্য দ্রুত খাদ্যসহায়তা দিতে হবে। গত সোমবার ‘করোনায় নগরের নিম্ন আয়ের নাগরিকদের খাদ্যের সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক অনলাইন সংলাপে বক্তারা এ দাবি জানান। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-পবা, বারসিক ও কাপ যৌথভাবে এই অনলাইন সংলাপের আয়োজন করে।
সংলাপে ধারণাপত্র উত্থাপন করেন বারসিকের কর্মসূচি কর্মকর্তা সুদীপ্তা কর্মকার। তিনি বলেন, সরকারের উচিত অবিলম্বে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র সব মানুষের নামের তালিকা তৈরি করা এবং এক্ষেত্রে নগরের নিম্ন আয় ও ভাসমান মানুষের তালিকায় আগে হাত দেওয়া। কারণ গ্রামের অতিদরিদ্রদেরও নানামাত্রিক সুযোগ রয়েছে, কিন্তু নগরের ভাসমান মানুষের তো নাগরিকের মর্যাদাই দেওয়া হয় না। এই করোনা মহামারির লকডাউনে অধিকাংশ মানুষের দিন কাটছে খেয়ে-না খেয়ে, কিন্তু এগুলো দেখার কেউ নেই।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও পিপিআরসির নতুন গবেষণায় জানা যায়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে এবার নতুন করে আড়াই কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে। করোনার কারণে একদিকে যেমন মানুষের আয় কমেছে, অন্যদিকে খাদ্যসহ অন্যান্য দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে, যা মানুষের খাদ্য অধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলেছে। ৩৭ শতাংশ মানুষ এখন বিভিন্ন উত্স থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছে। তাদের ৬৩ শতাংশ মানুষ ঘরভাড়া দিতে পারেনি। ৪৭ শতাংশ মানুষ তাদের খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমিয়েছে। খাদ্য অধিকার আন্দোলনের তথ্যমতে, দেশের প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দিনমজুর, শ্রমিক, কর্মচারী, কারিগর, রিকশাচালক, গৃহকর্মী, হকারসহ নিম্ন আয়ের নগরবাসী, যারা প্রতিনিয়ত এই শহরে তাদের সেবা দিয়ে শহরটাকে সক্রিয় রেখেছেন।
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান, কাপের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রেবেকা সান ইয়াত, কাপের সহসভাপতি কাজী বেবি, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট এম এ হামিদ খান, বাংলাদেশ আওয়ামী বাস্তুহারা লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ হালদার, বাপার যুগ্ম-সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, গ্রিনফোর্স সমন্বয় ও পবার সম্পাদক মেসবাহ সুমন, বারসিকের সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, ফিলিপাইনের বস্তিবাসী নেত্রী মারিও, বস্তিবাসী অধিকার সুরক্ষা কমিটির হোসনে আরা বেগম রাফেজা প্রমুখ। সংলাপ সঞ্চালনা করেন ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল।
সংলাপ থেকে বক্তারা সুপারিশ তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে—নগরের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থানীয় কউন্সিলর, সরকারের প্রতিনিধি, মন্ত্রাণালয়, সুশীল সমাজ, এনজিও প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডের দরিদ্র মানুষের তালিকা তৈরি এবং সে অনুযায়ী ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সার্বিক তত্ত্ববধানে প্রতিটি ওয়ার্ডে নগরের দরিদ্র মানুষের জন্য বিভিন্ন উত্স থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে ফুডব্যাংক তৈরি এবং তা যথাযথভাবে বিতরণ। শহরের নিম্ন আয়ের গৃহকর্মীদের জন্য বিশেষ খাদ্যসহায়তা ও রেশনিং কার্ডের ব্যবস্থা।