গুলশানে ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া (২১) নামের এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঐ তরুণীর লাশ সোমবার সন্ধ্যার পর গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাড়ির বি-৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারের পর সোমবার রাত দেড়টায় মৃতের বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ (৩০৬ পেনাল কোড-১৮৬০) এনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে।

এদিকে, আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান আদালতে আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগ

মামলায় বাদী উল্লেখ করেছেন, মোসারাত মিরপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মামলার আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে মোসারাতের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে দুই জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালে মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তারা বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২০ সালে আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আসামির মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং তাকে ঢাকা  থেকে চলে যেতে বলেন। আসামি কৌশলে তার (বাদী নুসরাতের) বোনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, সর্বশেষ গত পহেলা মার্চ মোসারাতকে আসামি ফুঁসলিয়ে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তার (বাদীর) বোনের স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখা হয়। আসামি বাসায় এলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো। ২৫ এপ্রিল মোসারাত তাকে (বাদী) ফোন করেন। ঐ সময় তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভোগ করেছেন। মোসারাত চিত্কার করে বলেন, আসামি তাকে ধোকা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তার বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

এজাহারে আরো বলা হয়, সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানের বাসায় তিনি পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মিলেনি। পরে মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তার বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলে আছেন।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী  বলেন, মোসারাত জাহানের বাড়ি কুমিল্লা শহরের উজির দিঘীর পাড়ায়। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমান। মেয়েটির পরিবার কুমিল্লায় থাকে। এখানে ঐ ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন।

তিনি আরো বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে মোসারাত জাহানের পরিচয় ছিল। তিনি ঐ ফ্ল্যাটে যাতায়াত করতেন বলেও তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আলামত হিসেবে আসামির সঙ্গে ছবি, আসামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ডায়েরি ও তার ব্যবহূত দুটি মোবাইল পুলিশ জব্দ করেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা লাশ কুমিল্লায় নিয়ে যান।

কুমিল্লায় টমছমব্রিজ কবরস্থানে লাশ দাফন

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, মোসারাতের মরদেহ কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় তার বড় বোনের বাসায় নিয়ে আসা হয়। এসময় স্থানীয় লোকজন বাসাটির আশপাশে ভিড় জমায়। এতে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গতকাল বাদ আসর তার মরদেহ নগরীর টমছমব্রিজ কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় এলাকার বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারে এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।