শ্রমিকের পেশাগত নিরাপত্তায় শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর তাগিদ আইএলেওর

করোনা ভাইরাসের মতো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য  ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও। শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের তাগিদও দিয়েছে সংস্থাটি। পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বিশ্বব্যাপী একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইএলও। এতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ১৩ কোটি ৬০ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী  কোভিডে  আক্রান্ত হওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাদের ৭ হাজার এরই মধ্যে মারা গেছেন। কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই ৫ লাখ ৭০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে আড়াই হাজার। 

আইএলওর পূর্বের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, করোনাকালে অপ্রত্যাশিত চাকরিচ্যুতি এবং লকডাউনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অচল হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে আত্মহত্যার উদাহরণ তৈরি হয়েছে। আগামীতে জরুরি দুর্যোগে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় এখনই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশসহ সংস্থার অন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে শক্তিশালী নীতিকাঠামোর তাগিদ দিয়ে বলা হয়, এর মাধ্যমে যাতে আগামীতে কোভিডের মতো অন্য যে কোনো দুর্যোগে ঝুঁকি হ্রাস করা যায়।

আইএলর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, কোভিড থেকে পুনরুদ্ধার, প্রতিরোধে সব দেশে এ সংক্রান্ত একটি জাতীয় অর্থবহ নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। যাতে প্রাতিষ্ঠানিক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোর মাধ্যমে সমন্বিতভাবে আগামীতে  কোভিডের মতো যে কোনো দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা  করা যায়। বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিআইনেন বলেন, পেশাগত  স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের   বিষয়টি   কতটা গুরুত্বপূর্ণ কোভিড সে বিষয়ে খুব পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে। সব শিল্পকারখানায় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা   অবশ্যই জাতীয় অগ্রাধিকারে থাকতে হবে।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিবস পালন হয়ে আসছে।