সুনির্দিষ্ট করারোপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আহ্বান

সিগারেটসহ সব তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট করারোপের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স—আত্মা। মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য তামাক কর ও দাম সংক্রান্ত বাজেট প্রস্তাব গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরে সংগঠন দুটি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দাবি বাস্তবায়ন করা হলে ৩ লাখ ৯০ হাজার বর্তমান ধূমপায়ী এবং ৪ লাখ তরুণের অকাল মৃত্যু রোধ হবে এবং সিগারেট থেকে সম্পূরক শুল্ক, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ এবং ভ্যাট বাবদ অতিরিক্ত ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, আসন্ন বাজেটে তামাকের দাম ও কর বাড়ানোর এই প্রস্তাব আমি সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করি। সরকারকে মানুষের কল্যাণের বিষয়টি দেখতে হবে আমাদের সংবিধানেও তাই রয়েছে। কিন্তু সরকার তামাক থেকে শুধু রাজস্ব আয়ের বিষয়টি প্রাধান্য দেয় অথচ মানুষের ওপর এর অভিঘাত কি সেটা মূল্যায়ন করে না। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, তামাকের ওপর সুনির্দিষ্ট হারে কর বসাতে হবে, এতে সরকার লাভবান হবে। তিনি আরো বলেন, এই করোনাকে ঘিরে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে, তামাকের স্বাস্থ্যক্ষতি বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, আমাদের তামাক-কর কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন দরকার। এজন্য তামাকপণ্যে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করতে হবে। বিশেষ করে সিগারেটের নিম্নস্তরে প্রস্তাবিত কর ও দাম প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। কারণ সিগারেট ব্যবহারকারীদের প্রায় ৭২ শতাংশ নিম্নস্তরের  সিগারেট ব্যবহার করেন।