দিল্লিতে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় অস্থায়ী শ্মশান

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মহামারি করোনার প্রকোপ এতটাই ভয়ানক হয়ে উঠেছে যে হাসপাতালগুলোতে আর জায়গা খালি নেই। যারা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন তাদেরকে শ্মশানে নিয়ে শবদাহ করা যাচ্ছে না। কারণ, সেখানে জায়গা নেই। তাদের জন্য বিভিন্ন মাঠ ও পার্ককে অস্থায়ী শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাতে এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

সেখানে বলা হয়, দিল্লির পার্ক এবং অন্যান্য ফাঁকা জায়গাগুলোকে মরদেহ দাহ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্মীরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে পরিবারগুলোকে তাদের প্রিয়জনের মরদেহ নিয়ে শ্মশানের বাহিরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবুও নিয়ম অনুযায়ী ঠিকভাবে দাহ্য করানো সম্ভব হয়ে উঠছে না।

মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গত সোমবার কেবল দিল্লিতেই ৩৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর পুরো ভারতে এ সংখ্যাটা ২ হাজার ৭৭১ জন। একইদিন নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে তিন লাখ ২৩ হাজারের বেশি মানুষের দেহে। এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ দিন দেশটি তিন লাখের বেশি সংক্রমণের সাক্ষী হলো।

বিবিসি জানিয়েছে, দিল্লির সরাই কালের খান শ্মশানে নতুন করে কমপক্ষে ২৭টি পাইর তৈরি করা হয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী পার্কে আরও একটি ডজন যুক্ত করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা শহরের যমুনা নদীর নিকটে শ্মশানের জন্য অতিরিক্ত জায়গারও সন্ধান করছেন। শহরের পার্কগুলোতে থাকা গাছ কেটে ফেলছে কর্তৃপক্ষ। মূলত মরদেহ পোড়ানোর জন্য ব্যবহার করতেই এ পদক্ষেপ।

শ্মশানের এক কর্মী হিন্দু নিউজপেপারকে জানান, তাদের এখানে সর্বোচ্চ ২২টি মরদেহ পোড়ানোর সক্ষমতা আছে। তারা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত টানা কাজ করে যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/টিএ