একটি হাসপাতাল বেডের জন্য ২০০ জনকে ফোন

ভারতে মহামারি করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা ক্রমশ বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অক্সিজেনের অভাবে অসংখ্য রোগী মৃত্যুর কোলো ঢলে পরছে। অনেকে হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে রাস্তার ফুটপাতেই মারা যাচ্ছেন। রোগীর আত্মীয়রা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ফোন করেও হাসপাতালের বেড পাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সকল স্থানে বেড ও অক্সিজেনের জন্য হাহাকার। এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে বিবিসি।

সেখানে বলা হয়েছে, সকাল থেকে রাত অবধি রোগীর আত্মীয়রা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে বার্তা দিচ্ছে এবং তাদের ফোন বইয়ের মাধ্যমে সবার কাছে হাসপাতালের বিছানা, অক্সিজেন, কোভিড ড্রাগ রিমডেসিভির এবং প্লাজমা খুঁজছেন। এর মধ্যে অনেকে পাচ্ছে তো আবার বাকিরা পাচ্ছে না। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি।

অবনি সিং নামের এক তরুণী তার ৯৪ বছর বয়স্ক দাদার জন্য অক্সিজেন খুঁজছেন। জানান, ভোর ৬টা থেকে বিভিন্ন জায়গায় কল দেওয়া শুরু হয়। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন এবং পেশাদার পরিচিতি সবার সঙ্গেই যোগাযোগ করা হয়েছে। নিজেদের জানার মধ্যে সব জায়গাতেই যোগাযোগ করেছি। সবমিলিয়ে অন্তত ২০০ জাযগায় কল দেওয়া হয়েছে।

অবনির মা অম্রিতা জানান, এক স্কুল ফ্রেন্ডের মাধ্যমে একটি হাসপাতালে জায়গা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে কোনো অক্সিজেন ছিল না। ততক্ষণে অবনির দাদা অজ্ঞান হয়ে যান। তারপরে আমি ফেসবুকে একটি পোস্ট করি এবং এক বন্ধুর মাধ্যমে অক্সিজেনযুক্ত একটি জরুরি রুম খুঁজে পাই। ওই রাতে আমার বাবা বেঁচে যায়।

এদিকে, দিল্লিতে মহামারি করোনার প্রকোপ এতটাই ভয়ানক হয়ে উঠেছে যে হাসপাতালগুলোতে আর জায়গা খালি নেই। যারা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন তাদেরকে শ্মশানে নিয়ে শবদাহ করা যাচ্ছে না। কারণ, সেখানে জায়গা নেই। তাদের জন্য বিভিন্ন মাঠ ও পার্ককে অস্থায়ী শ্মশান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/টিএ