শাহিদা যখন তার স্বামীর মুঠোফোনে বার বার কল করছিল তখন উদ্বিগ্ন হয় নি; এমনকি যখন তার স্বামী পরে আর ফিরতি কল করেনি, তখনও তিনি অবাক হননি। ছয় বছরের বিবাহিত জীবনে এমন ঘটনা এই প্রথমবার নয় যে আলি আহমেদ নির্দিষ্ট সময়ে বাসায় ফিরেননি। পুলিশের চাকরিতে ডিউটির বাহিরেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকে কাজ করতে হয়।
যাইহোক, এক প্রতিবেশি শাহিদাকে একটি রিপোর্ট দেখায়। যেখানে পুলিশের সঙ্গে পাকিস্তানের উগ্রপন্থী ধর্মীয় দল তেহরিক-ই-লাব্বাইকের (টিএলপি) নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ চলছে। এরপরই উদ্বিগ্ন হয়ে পরেন তিনি। দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা সাদ হুসাইন রিজভীকে আটকের পর থেকেই এ সহিংসতা ছড়িয়ে পরে। প্রতিবেশী এক মহিলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া আরো একটি ভিডিও দেখান। যেখানে বিক্ষোভকারীদের দ্বারা কয়েকজন পুলিশ সদস্য মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছিলেন। তখন তার উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
ওইদিন রাত প্রায় ১০টার দিকে, ঘরের কলিংবেল বেজে ওঠে। তখন আলি আহমেদের দুই কন্যা তাদের বাবা ফিরেছেন সেই আশায় দরজা খুলতে যায়। কিন্তু দরজায় তাদের বাবা নয়, বরং দুই পুলিশ অফিসার দাঁড়িয়ে আছে। ওই পুলিশ সদস্যরা শাহিদাকে জানায় যে, আলি আহমেদ বিক্ষোভকারীদের দ্বারা বন্দি হয়েছেন। তাকে ছাড়িয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। চৌক ইয়াতিম খানা রোডে দায়িত্ব পালন করার সময় আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ তাকে বন্দি করে নিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় শাহিদাকে একটি ফোন নাম্বার দিয়ে যায় তারা, যেন যে কোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারে।
দ্য ডন পত্রিকাকে শাহিদা বলেন, মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছে কেউ যেন আমার পায়ের তলার মাটি সরিয়ে নিয়েছে। টিভি চ্যানেলগুলো বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী এবং পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের কথা বলছিল এবং অস্পষ্ট রিপোর্ট প্রচার করছিল। যাইহোক, একটি চ্যানেল বার বার আহত বিক্ষোভকারী ও পুলিশ সদস্যদের ছবি দেখাচ্ছিল।
ওই নাম্বারটিতে বার বার ফোন দিচ্ছিলাম সঠিক তথ্য জানার জন্য। কিন্তু প্রতিবারই একই সংবাদ পাই। অবশেষে রাত ২টার দিকে একটি ভালো সংবাদ আসে। তখন এক পুলিশ কর্মকর্তা জানায় যে, আলি আহমেদ সহ বাকিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে, যোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পুলিশের এই স্ত্রী আরও জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা পর মাথায় ব্যান্ডেজ বাধা অবস্থায় আমার স্বামীকে তার সহকর্মীরা বাসায় নিয়ে আসে। সহকর্মীরা তাকে ধরে রাখছিল। কারণ, সে তীব্র ব্যাথার কারণে হাঁটতে পারছিল না। তা দেখে আমার কন্যারা কান্না শুরু করে দেয়। পরবর্তীতে যখন আমি তার রক্তমাখা শার্ট সরিয়ে ওষুধ দিতে যাই, তখন দেখি তার পুরো শরীর আক্ষরিক অর্থে ক্ষত দ্বারা আবৃত, বেশিরভাগই গভীরভাবে কাটা ছিল। তিনি রোযা রেখেছিলেন, তবুও অপহরণকারীরা তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে।
ইত্তেফাক/টিএ