কেমন আছেন সালমান শাহ’র নায়িকা সোনিয়া

নব্বই দশকের জনপ্রিয় তারকা সোনিয়া। প্রায় ৩ শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন। এক সময়ের তুমুল ব্যস্ত এই চিত্রনায়িকা সংসারে থিতু হয়েছেন। প্রয়াত সালমান শাহ’র সঙ্গে সুপারহিট ছবি ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। লন্ডনে স্থায়ী হয়েছেন। কথা বললেন সেই সময় নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন

এ এম রুবেল

কেমন আছেন?

এই সময়ে মানুষ যেমন থাকে। সুস্থভাবে বেঁচে আছি এটাই শুকরিয়া।

ঢাকায় পুরনো কলিগদের সঙ্গে কথা হয়?

প্রায়ই কথা হয়। অনেকের সঙ্গেই কথা হয়। নতুনদের ছবি লিঙ্ক পাঠায়, সেগুলো দেখি।

হুমায়ূন ফরিদীর সঙ্গে বেশকয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তার সঙ্গে এমন কোন গল্প আছে, যা এখনো আবেগতাড়িত করে!

ইন্ডাস্ট্রিতে যাত্রা শুরুর সময় থেকেই আমি খুবই লাকি ছিলাম। সিনিয়ররা সবাই আমাকে কেন যেন একটু বেশিই ভালোবাসতেন, স্নেহ করতেন। সাবানা আপা, হুমায়ূন ভাই’সহ অনেকই ছিলেন সেই দলে। হুমায়ূন ভাই আমার প্রতিবেশিও ছিলেন। এক সঙ্গে আড্ডা-গল্পের অনেক স্মৃতি তার সঙ্গে রয়েছে। একটা কথা খুবই মনে পড়ে, হুমায়ূন ভাই আর আমার জন্ম একইদিন ছিল। আমি তো নিজের জন্মদিনে কোনো পার্টি করতাম না, তাই এমনও হতো যে, ভাই বলতেন আয় আমার পার্টিতে চলে আয়। একসঙ্গে সবাই আনন্দ করবো।

অনেকেই বলে থাকেন ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ বন্ধু হয় না। আপনি এ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?

অপ্রিয় হলেও কথাটা অনেকটাই সত্য। বলতে কষ্ট হলেও আমারও সেই অর্থে কোনো বন্ধু ইন্ডাস্ট্রিতে নেই। কাজের সূত্রে কারো কারো বাসায় যাওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কারো বাসায় যাওয়া, আড্ডা দেওয়া কখনো হয়নি। যদিও কারো সঙ্গেই আমার খারাপ সম্পর্ক না।

জনশ্রুত আছে, শাবনূর ও মৌসুমীর সঙ্গে আপনার দ্বন্দ্ব ছিল। আজ এই সময়ে এসে সেই বিষয়টি নিয়ে কী বলবেন?

আমরা একই সময় ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। অনেক সময় হয়তো খবর বেরিয়েছে আমাদের মাঝে দ্বন্দ্ব চলছে। তবে আমাদের হয়তো কাজের বিষয়ে প্রতিযোগিতা ছিল, কিন্তু ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল না। শাবনূরের সঙ্গে একটা একটি দৃশ্য নিয়ে অন্যের এক কমেন্টসে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আর মৌসুমীর সঙ্গে না, একবার সানি ভাইয়ের সঙ্গে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল।

ক্যারিয়ারে কতটা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হয়েছে। সেই সময়ে সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট কার কাছ থেকে পেতেন?

অনেক বাঁধা পেরিয়েই কাজ করতাম। এমনও হয়েছে যে কোনো একজন নায়িকার কথায় আমার একটি সিকোয়েন্স কেটে ফেলা হয়েছে। কীভাবে পরিচালক, সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে চলতে হয় সেই বিষয়গুলোই বুঝতাম না। যে কারণে মিডিয়া কাভারেজ সেভাবে পেতাম না। এমনকি ফিল্মের একজন সাংবাদিক দিয়ে কিছু মিথ্যা নিউজ করে আমার জীবনটাই শেষ করে দিয়েছে। কিছু লোক কখনোই আমার ভালো চাইতেন না। তখন আমার মনে হতো যেহেতু পলিটিক্স বুঝি না, সেহেতু এই মিডিয়া আমার জন্য না।

ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে ‘গডফাদার’ প্রয়োজন রয়েছে বলেন মনে করেন না?

এটাকে ঠিক গডফাদার বলবো না। টিকে থাকতে হলে এমন একজনকে নিশ্চয় দরকার, যার সঙ্গে কোনো কাজ করার আগে বা পরে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। যেটা আমার ছিল না।

সালমান শাহ’র সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছেন। তার সঙ্গে কাজের বোঝাপড়া কেমন ছিল?

সালমান শাহ’র সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল। খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক রাখতেন সবার সঙ্গে। তখন আমার বা সালমানের কারো গাড়ি ছিল না। সালমান ইউনিটের গাড়ি নিয়ে আমার বাসার সামনে আসতো, তারপর আমরা একসঙ্গে শুটিংসেটে যেতাম। অনেক আড্ডা দিতাম, মজা করে শুটিং করতাম। দর্শকরাও আমাদের জুটিকে ভালোবেসেই গ্রহণ করেছিলেন। একটা সময় শুনেছিলাম সালমান ও আমাকে নিয়ে বেশকিছু ছবির পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু পরে সেগুলো আর আলোর মুখ দেখেনি। আসলে অনেকেই আমার ভালো চায়নি।

ফিল্ম ক্যারিয়ারে সবচেয়ে আনন্দ বা প্রাপ্তির সময় কোনটা ছিল?

এত হইচই করে শুটিং করতাম, যেগুলো খুব মনে পড়ে। দীলিপ দার বাসায় মাঝে মাঝে সবাই আড্ডা দিতাম। সেই সময়গুলোই মনে হয় অনেক আনন্দের ছিল।