রতন কুমার আচার্য, বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা
বেড়ার তাঁতিরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন ঈদুল ফিতরের বাজার ধরার জন্য। কারণ ঈদ উপলক্ষ্যে বসা কাপড়ের হাটে তাঁতিরা ভালো দামে শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রি করতে পারেন। এ সময়টাই হলো তাঁতিদের অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও ভাগ্য পরিবর্তনের আসল সময়টাতেই তাঁতিরা আবারও পড়েছেন চরম বিপর্যয়ে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউন থাকায় এবারও বহুল প্রত্যাশিত কাপড়ের হাটে কাপড় নিতে পারছেন না তারা। তাঁতিরা জানান, ঈদুল ফিতরের আগের দেড় থেকে দুই মাস হলো তাঁতিদের কাঙ্ক্ষিত সময়। সারা বছর ধরে তাঁতিরা এই সময়ের জন্য অপেক্ষা করেন। এই সময়ে যে আয় হয় তা দিয়ে সারা বছরের ধারদেনা শোধ করেন। অথচ গত বছরের মতো এবারও বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়েই তারা কর্মহীন রয়েছেন। উপজেলার তাঁতসমৃদ্ধ হাতিগাড়া, জগন্নাথপুর, পেঁচাকোলা ও রাকশা গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, এক সময় বেড়া উপজেলায় ৫ হাজারেরও বেশি তাঁত চললেও বর্তমানে তা প্রায় ৩ হাজারে নেমে এসেছে। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাসের থাবা এসব তাঁতের জন্য বয়ে এনেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। ঐ গ্রামগুলোতে বর্তমানে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। অথচ স্বাভাবিক অবস্থায় এসব গ্রামে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাঁতের সম্মিলিত শব্দে কানে তালা লাগার অবস্থা হয়। তাঁত বন্ধ থাকায় দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উপার্জন বন্ধ হয়ে রয়েছে। ঐসব গ্রামের অন্তত ১০ জন তাঁতশ্রমিক জানান, ঘরে খাবার না থাকায় অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। বেড়ার নতুন পেঁচাকোলা গ্রামের তাঁতশ্রমিক হাসান আলী বলেন, তাঁত চালু থাকা অবস্থায় প্রতিদিন ২৫০ টাকার মতো আয় হতো। এখন রোজগার বন্ধ থাকায় ঘরে খাবার নেই। দিন আর চলছে না। আমাদের ভাগ্যে সরকারি সাহায্যও জোটে না। হাঁটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের তাঁতসমৃদ্ধ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেল্টু মিয়া বলেন, নদীভাঙনকবলিত আমার ওয়ার্ডে পাঁচ শতাধিক তাঁতশ্রমিক রয়েছেন। ঈদুল ফিতরের এই ভরা মৌসুমে বেশির ভাগ তাঁতিই এখন বেকার। তাদের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন প্রাথমিক তাঁতি সমিতির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, বেড়ার প্রায় সব তাঁতই এখন বন্ধ। এ অবস্থায় তাঁতশ্রমিকদের সঙ্গে তাঁতমালিকদের ঘরেও হাহাকার চলছে। প্রতিটি তাঁতমালিকের মাথার ওপর মোটা অঙ্কের ঋণের বোঝা। তাঁতিদের বাঁচার পথ আর থাকল না।