হামলার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিত্সকরা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ইন্টার্ন চিকিত্সকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই কর্মবিরতি আহ্বান করা হয়েছে বলে চমেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ডা. তাজওয়ার রহমান জানিয়েছেন। কর্মবিরতি প্রত্যাহারে বুধবার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হলেও ইন্টার্ন চিকিত্সকরা নিজেদের দাবিতে অনড় ছিলেন। হামলাকারীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মস্থলে যোগ দেবেন না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন। চমেক হাসপাতালের পরিচালকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় হাসপাতাল ও চমেক কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন এবং দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, ইন্টার্ন চিকিত্সকদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। আশা করছি তারা কাজে যোগদান করবেন।
তবে চমেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ডা. তাজওয়ার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে সমাধান আসেনি। মঙ্গলবার ইন্টার্ন চিকিত্সকদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। দাবি মানা না হলে কর্মবিরতি চলমান থাকবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজনের নেতৃত্বে বহিরাগতরা মেডিক্যালে হামলা চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চমেক ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার জের ধরে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বুধবার সকাল থেকে কর্মবিরতিতে যান ইন্টার্ন চিকিত্সকরা। চমেক হাসপাতালের পরিচালক সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্মবিরতির ব্যাপারে অবহিত ছিল না। তবে করোনার কারণে রোগী কম থাকায় চিকিত্সাধীন রোগীদের সেবা দিতে তেমন একটা অসুবিধা হয়নি।