নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর করার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম। গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেল সুপার মাহবুব আলম। জেলার মাহবুব আলম বলেন, বিকাল সাড়ে ৫টায় জামিনের কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি কারামুক্ত হয়েছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বরখাস্ত হওয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে ‘মারধরের’ পর গত বছরের ২৫ অক্টোবর গ্রেফতার হয়েছিলেন। ছয় মাস কারাবাসের পর বুধবার মুক্তি পেলেন তিনি। হাজি সেলিমের ব্যক্তিগত একান্ত সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ বেলাল বলেন, কারাগার থেকে বের হয়ে ইরফান সেলিম প্রথমে আজিমপুর কবরস্থানে মায়ের কবর জিয়ারত করেন। এরপর থেকে তিনি পুরোনো ঢাকার দেবীদাস ঘাট লেনের দাদার বাড়িতে রয়েছেন। ইরফান কারাগারে থাকা অবস্থায় তার মা গুলশান আরা সেলিম মারা যান। গুলশান আরাও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার ছিলেন।
ঢাকার ধানমণ্ডিতে নৌবাহিনীর এক জন কর্মকর্তাকে ‘মারধরের’ পর দিন র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হন তিনি। এরপর বেরিয়ে আসে তার নানা অপকর্মের নানা চিত্র, তাত্ক্ষণিক কারাদণ্ডেও দণ্ডিত হন তিনি। পুরান ঢাকার তৃতীয় বারের এমপি হাজি সেলিমের দ্বিতীয় সন্তান ইরফান আরেক সংসদ সদস্য নোয়াখালীর একরামুল করিম চৌধুরীর জামাতা। বিদেশে লেখাপড়া করে আসা ইরফান বাবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মদিনা গ্রুপের পরিচালকদের একজন। ইরফান নিজেও একজন জনপ্রতিনিধি। পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাট, মিটফোর্ড রোড ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি। যদিও গ্রেফতারের পর তাকে ওয়ার্ড কাউন্সিলের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে ‘মারধরে’র পর দিনই সোয়ারীঘাটের দেবদাস লেনে হাজি সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান শুরু করে র্যাব। কিছুক্ষণের মধ্যে ভবনের চতুর্থ তলা থেকে ইরফান ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে আটক করে। ঐ দিন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ঐ দুই ফ্লোর থেকে দুটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার পাওয়া গেছে। আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো লাইসেন্স নেই। আর ওয়াকিটকিগুলোও অবৈধ, কালো রঙের এসব ওয়াকিটকি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করতে পারেন। পরে মদ্যপান ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করার অপরাধে ইরফান ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় সারওয়ার আলম। পরে র্যার এই দণ্ডের পাশাপাশি দুই জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করে।