রাজধানীর মিরপুরের উত্তর কালশীর মূর্তিমান আতঙ্ক ও ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত স্থানীয় ‘সাইনউদ্দিন বাহিনী’র প্রধান সাইনউদ্দিন ও তার ভাই মাইনউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। মাইনউদ্দিনও অন্তত ২০ মামলার আসামি। নানা ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, জোরপূর্বক অন্যের জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। পল্লবীর বাসিন্দা মোহাম্মদ তাহেরের দায়েরকৃত একটি মামলার আসামি হিসেবে মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। গতকাল বুধবার আদালতে তোলা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।
জানা গেছে, মিরপুরের উত্তর কালশী এলাকায় জমি দখল ও মাদক কারবারসহ সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মূল হোতা এই সাইনউদ্দিন। ত্রাসের কারণে ‘সাইনউদ্দিন বাহিনী’ এলাকায় এক আতঙ্কের নাম। সাইনউদ্দিনের বিরুদ্ধে বহু মামলা হলেও ঘুরেফিরে আবারও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়। এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন তিনি। র্যাব ও পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও সন্ত্রাসীকাজে লিপ্ত হন। অস্ত্র কেনাবেচা ও প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দায়ে ২০১০ সালে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। ডাকাতি ও মাদক ব্যবসার অপরাধে ২০১২ সালে তেজগাঁও থানায় মামলা হয়েছিল। ১ হাজার ২০০ বোতল ফেনসিডিলসহ ২০১৩ সালে তাকে গ্রেফতার করে শাহআলী থানা পুলিশ তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য আলামিন ও টিটুসহ কয়েকজনকে।
পল্লবী থানায় মঙ্গলবার রাতে দায়েরকৃত মামলার এজাহারে মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, স্থানীয় মৃত জইনউদ্দিনের ছেলে মাইনউদ্দিন ও সাইনউদ্দিন সহযোগীদের নিয়ে তাদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা করা হয়, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এজাহারে বলা হয়, ‘আসামিরা খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। তারা নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদক বিক্রি, চাঁদাবাজি, জমিজমা দখল, খুন ও জখমসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। তারা স্থানীয় সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। গত ৬ ফেব্রুয়ারি আসামিদ্বয় টেলিফোনে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় মাইনউদ্দিন ও সাইনউদ্দিন মঙ্গলবার রাতে ১০/১৫ জন সহযোগীকে নিয়ে পল্লবী থানাধীন বাউনিয়া মৌজাস্থিত সিএস ও এসএ ৩১২৪ দাগের সম্পত্তিতে জোরপূর্বক ঢুকে ভাঙচুর চালিয়ে আনুমানিক সাড়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে চলে যায়।