রাজধানীতে স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় এক গৃহবধূ ও এক টেইলার্সের মালিক খুন হয়েছে। ক্যান্টনমেন্টের মানিকদিতে খুন হয়েছে গৃহবধূ শাকিলা পারভিন সুমি (২৮) ও শ্যামপুরে মুরাদ (৪০)।

সুমির মামাতো ভাই শাকিব মোল্লা জানান, সুমির বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার গোল্লীতে। ২০১৯ সালে প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে হয় তার। তার স্বামী রাইসুল আলাম সৌরভ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাদের কোনো সন্তান নেই। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে রাজধানীর পশ্চিম মানিকদি ২২৭/২ নম্বর বাড়ির নিচতলায় থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই সুমি এবং তার স্বামীর মধ্যে ঝগড়াবিবাদ লেগে থাকত। রাইসুল প্রায়ই সুমিকে মারধর করতেন। গত মঙ্গলবার রাতে তার মায়ের মাধ্যমে খবর পান যে সুমি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শাকিবের দাবি, সুমির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তার স্বামী তাকে হত্যা করেছে।

সুমির স্বামীর দাবি, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় ছোলাবুটে লবণ কমবেশি হওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে সুমি পাশের রুমে গিয়ে গলায় ফাঁস নেয়। তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি কাজী শাহান হক জানান, মঙ্গলবার রাতে মৃত সুমিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখান থেকে তার স্বামী পুলিশকে না জানিয়ে বাসায় নিয়ে যায়। পুলিশ বিষয়টি অবহিত হয়ে রাতেই লাশ উদ্ধার করে। সুমির শরীরে কিছু জখমের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পুলিশের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিহতের ছোট বোন হত্যা মামলা করেন। অভিযুক্ত রাইসুলের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা হয়েছে। ঐ দুই মামলায় রাইসুলকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এদিকে গতকাল দুপুরে শ্যামপুর থানার ফরিদাবাদের হরিচরণ রায় রোডের একটি বাড়িতে ছোট ভাই মাসুদের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই মুরাদ খুন হয়েছে। মুরাদকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা লিটন জানান, ফরিদাবাদে মুরাদের নিজের বাড়ি। সে টেইলার্সের মালিক। বাড়ির দোতলায় কাঠ মিস্ত্রিরা কাজ করছিল। তারা হঠাত্ মাসুদকে বাড়ি থেকে দৌড়ে পালাতে দেখে। কিছুক্ষণ পর মুরাদকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি থেকে নিচে নামতে দেখে তারা। এরপর তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।

মুরাদের বোন ছন্দা আক্তার জানান, দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মুরাদ বড়। মাকে নিয়ে ওয়ারী এলাকায় থাকেন তিনি। মুরাদ পরিবার নিয়ে শাহজাহানপুরে থাকে। শ্যামপুরে তাদের নিজেদের বাড়িতে থাকত ছোট ভাই মাসুদ।

শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজুল আলম জানান, অভিযুক্ত মাসুদকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।