দূতাবাস কর্মীদের আফগানিস্তান ত্যাগের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

আফগানিস্তান থেকে অতিরিক্ত দূতাবাস কর্মীদের অবিলম্বে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার কাবুলে মার্কিন দূতাবাসের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে দূতাবাসে জরুরি নয়, এমন কর্মীদের অনতিবিলম্বে সেখান থেকে দেশে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেননা মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর কর্মীদের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। 

সংবাদ মাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণার দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন এই ঘোষণা দিল। দেশটিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আড়াই হাজার সেনা অবস্থান করছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এক ঘোষণায় জানিয়েছে, আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা তাদের সৈন্যদের আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করে নেবে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই প্রক্রিয়া শুরু হবে আগামী ১ মে থেকে। তবে ঐদিন শুধু মার্কিন বাহিনী নয়, আফগানিস্তান থেকে বিদায় নিতে শুরু করবে ন্যাটো সেনারাও। কিছুদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা করেন যে, এ বছর নাইন ইলেভেনের হামলার ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে আফগানিস্তান থেকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশটিতে বিশ বছর ধরে থাকা মার্কিন সেনা উপস্থিতির অবসান হতে যাচ্ছে।

আফগানিস্তানে ওয়াশিংটনের বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে সতর্ক করে বলেছেন, তালেবান অধ্যুষিত সরকার যদি মানবাধিকারের প্রতি সম্মান না দেখায় তবে মার্কিন সহায়তা হ্রাস পাবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কাবুল মার্কিন দূতাবাস থেকে মার্কিন সরকারের কর্মী যারা অন্যক্ষেত্রেও কাজ করতে পারবেন তাদের কাবুল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাবুলের ভারপ্রাপ্ত মার্কিন দূত রোজ উইলসন জানিয়েছেন, সম্প্রতিক কাবুলে সহিংসতা এবং আতঙ্কের ঘটনা বাড়তে থাকায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই পদক্ষেপ নিয়েছে। 

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল কেনেথ ম্যাককেনজি মঙ্গলবার বলেন, কাবুলে একটি কার্যকরী দূতাবাস রাখার ব্যাপারে প্রশাসন এখনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আফগানিস্তানে অবস্থিত দূতাবাসের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু এখানে আমাদের খুবই সামান্য সংখ্যক সামরিক উপস্থিতি থাকবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি