সমসাময়িক সময়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশায় কর্মকর্তাদের আস্থাভাজন ও প্রিয়মুখ অত্র অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হাই। নার্সিং পেশার উন্নয়নে স্বল্প সময়েই নার্সদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন এই দক্ষ প্রশাসক। গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলি করা হয়েছে। তবে এই আদেশ বাতিল করে স্বপদে এই কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ নার্সরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে হাসপাতালগুলোতেও আব্দুল হাইয়ের বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মুখর হয়ে উঠেছে সাধারণ নার্সগণ।
পেশাজীবী নেতারা বলেন, সৎ, দক্ষ ও চৌকস এই কর্মকর্তাকে বদলি করা হলে বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা ও সেবার ব্যাপক ক্ষতি হবে। মোহাম্মদ আব্দুল হাইয়ের বদলি বাতিলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর আবেদন জানিয়েছেন নার্সদের কয়েকটি পেশাজীবী সংগঠন। বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মোঃ জামাল উদ্দিন বাদশা বলেন, পরিচালক, মোহাম্মদ আব্দুল হাই পিএএ এই নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে যোগদানের পর থেকে নার্সিং সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে এবং অনেক কাজ চলমান রয়েছে এবং তাঁর মত একজন চৌকস কর্মকর্তা নার্সিং সেক্টরে খুবই প্রয়োজন। আমরা তার বদলি প্রত্যাহার বা স্থগিত কামনা করছি।
এ বিষয়ে পেশাজীবী নার্সদের সংগঠন, বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন পাটওয়ারী বলেন, আবদুল হাই, পিএএ একজন চৌকস এবং দক্ষ প্রশাসক। সাধারণ নার্সদের সমস্যা, সুবিধা, অসুবিধায় খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করায় সাধারণ নার্সদের আস্থার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিলেন খুব অল্প সময়েই। ডিজিটাল বাংলাদেশের একজন সত্যিকারের ডিজিটাল পরিচালক ছিলেন আব্দুল হাই, সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ছিলেন সরব। ফেসবুকে অনেক সমস্যা নিজের চোখে পড়ায় স্ব-প্রণোদিত হয়ে সমাধান করেছেন, এমন উদাহরণ ভুরিভুরি। একজন সত্যিকারের অভিভাবক বলতে যা বুঝায়, আবদুল হাই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের অসম্পূর্ণ কাজগুলো তার উদ্যোগ ও উদ্যমে পেয়েছে নতুন মাত্রা।
স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) এর মহাসচিব মোঃ ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, পরিচালক আব্দুল হাই নার্সদের উন্নয়নে ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন এবং এখনও করছেন। সাধারণ নার্স ও নার্সদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোর এই সম্মিলিত দাবিটি আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।
ইত্তেফাক/ইউবি