সব শ্রমিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার দাবি

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনাকালে সব খাতের শ্রমিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে  শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তারা। নিরাপদ এবং ঝুঁকিমুক্ত কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করতে সেইফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি-এসআরএস, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট-ব্লাস্ট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস্ এবং শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের-এসএনএফ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল ‘করোনাকালীন পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা :বাস্তবতা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ঐ ওয়েবিনারে শ্রমিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে প্রয়োজনে আইন ও বিধিতে সংশোধন আনার তাগিদ দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান।

সভায় মূল প্রবন্ধে এসআরএস-এর প্রোগ্রাম অফিসার সিথি ঘোষ উল্লেখ করেন, করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমজীবীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন, আবার অনেকের মজুরি কমে গিয়েছে। তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে লকডাউন বা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে কাজ করছে ঠিকই কিন্তু কোনো কারণে অধিকার বঞ্চিত হলে প্রতিকারের সুযোগ পাচ্ছে না, আদালত বন্ধ থাকায় আদালতেও যেতে পারছে না। 

সভায় বক্তারা শ্রমিকদের ঝুঁকি ভাতা, কারখানা মালিকদের উদ্যোগে শ্রমিকদের করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন করে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা, করোনাকালের সুযোগ নিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই না করা, শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করা, ত্রিপক্ষীয় কমিটির কার্যক্রম জোরদার করা, শ্রমিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিলসের মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান, এসআরএস নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা, ব্লাস্টের উপ-পরিচালক মো. বরকত আলী, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) কামরুল আহসান, এনসিসিডব্লিউইর সদস্য সচিব নইমূল আহসান জুয়েল, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাকিল আখতার চৌধুরী প্রমুখ।