মুহাম্মদ আবুল হোসাইন
অশ্লীল আচরণ, গালমন্দ করা, ঝগড়াবিবাদ ইত্যাদিতে লিপ্ত হওয়া এমনেই ইসলামে নিষিদ্ধ। আর রোযা অবস্থায় এই ধরনের অপছন্দনীয় কাজে লিপ্ত হলে রোযা রাখার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি হয়ে যাবে। তাই রোযা অবস্থায় সকল প্রকারের অপছন্দনীয় অচরণ করা থেকে বিরত থাকতে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রসুলুল্লাহ (দ.) বলেছেন :“তোমাদের মধ্যে কেউ যেন রোযা রাখা অবস্থায় অশ্লীল কথা না বলে এবং জাহেলি আচরণ না করে। যদি কোনো ব্যক্তি তাকে গালমন্দ করে অথবা ঝগড়া করতে চায়, তাহলে সে যেন বলে আমি রোযাদার।” [সহিহবুখারি :১৯০৪]
মিথ্যা, গিবত, হিংসা, চুরি, সুদ খাওয়া, ব্যভিচারী কাজে লিপ্ত হওয়া, আমানাতের খিয়ানত করা, ওয়াদা ভঙ্গ করা, অবৈধ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করা, হারাম খাওয়াসহ সকল প্রকারের অনৈতিক কর্ম ইসলামি আখলাকের পরপিন্থি। আর এই ধরনের কর্মগুলো কাবিরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত, যা তাওবা ছাড়া আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। রোযা রাখার মূল উদ্দেশ্য যেহেতু তাক্ওয়া (খোদাভীতি) অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাই উল্লিখিত সকল প্রকারের অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে রোযা রাখলে তা প্রকৃত রোযা হিসেবে গণ্য হবে না। রাসুলুল্লাহ (দ.) বলেছেন : “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং তদানুযায়ী আমল করা পরিত্যাগ করতে পারলনা, রোযার উদ্দেশ্যে তার পানাহার পরিত্যাগ করা ছাড়া আল্লাহর কাছে কোনো প্রয়োজন নেই।” [সহিহবুখারী: ১৯০৩]
ইমাম গাজ্জালি (রাহ.)-এর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘এহ্ইয়াউলুমিদ্দিন’-এ রোযাকে তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন : প্রথমত, শুধু পানাহার ও স্ত্রী মিলন থেকে বিরত থাকা যাকে সাধারণ রোযা বলা হয়। দ্বিতীয়ত, পানাহার ও স্ত্রী-মিলন থেকে বিরত থাকার সঙ্গে সাথে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তথা চক্ষু, কর্ণ, জিহ্বা, হাত-পাসহ যাবতীয় অঙ্গকে সকল প্রকারের গুনাহর কাজ থেকে বিরত রাখা যাকে মকবুল রোযা বলা হয় এবং আল্লাহর নেক্কার বান্দারা ঐ রোযা রাখার জন্য চেষ্টা করেন। তৃতীয়ত, সকল প্রকারের দুনিয়াবি চিন্তা থেকে বিরত থেকে ক্বলবকে একমাত্র আল্লাহমুখী করে রোযা রাখা, যাকে নবি, শহিদ ও নৈকট্যবানদের রোযা হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিখ্যাত সুফিসাধকগণ গুনাহ পরিত্যাগের মাধ্যমে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের রোযার পাশাপাশি ক্বলবের রোযাকেও মকবুল রোযার জন্য শর্ত প্রদান করেছেন। অর্থাত্ পানাহার, কামভাব ও শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে গুনাহ থেকে বিরত রাখার সঙ্গে সঙ্গে ক্বলবকে (অন্তর) দুনিয়ার লোভ-লালসা থেকে বিরত রেখে সর্বদা আল্লাহমুখী হওয়ায় হল প্রকৃত রোযা।
l লেখক :সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও
পিএইচডি গবেষক, কিং আবদুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়, জেদ্দা, সৌদি আরব