স্পোর্টস ডেস্ক
ম্যান সিটির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে পিএসজির নেইমার বলেছিলেন ব্যালডিঅর জয়ের চেয়েও তার কাছে চ্যাম্পিয়ন লিগের ট্রফিটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেটা তার ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলবে। পিএসজিকে জেতাতে পারেননি নেইমার। পারেননি এমবাপ্পে। পিএসজির এই দুই ফুটবলারকে কীভাবে বোতলে ঢুকিয়ে ছিপি বন্ধ করে দিতে হয় সেটা টিভির দর্শক দেখেছেন। পিএসজির মাঠে পার্ক দে প্রিন্সেসে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম লেগের সেমিফাইনালে পিছিয়ে থাকা ম্যান সিটি ২-১ গোলে পিএসজিকে হারিয়ে দেখিয়েছেন ফাইনালে পথে কীভাবে এগিয়ে যেতে হয়।
নেইমারের ড্রিবলিং নেই। এমবাপ্পের চিতাবাঘের দৌড় খুঁজেই পেলেন না টিভির দর্শক। যারা রাতে জেগে নেইমার-এমবাপ্পের ফুটবল নৈপুণ্য দেখতে চেয়েছিলেন তারা মনটা খারাপ করে ঘুমিয়ে গেলেও এটা বুঝলেন শক্তির ওপরে শক্তি আছে।
১৫ মিনিটে অধিনায়ক ডিফেন্ডার মারকুইনোসের গোলে পিএসজি এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে কেভিন ডি ব্রুইন ও রিয়াদ মাহরেজের গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পেপ গার্দিওলার ম্যান সিটি।
শেষ ষোলতে বার্সেলোনা, কোয়ার্টার ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখকে বিদায় করে সেমির টিকিট কেটেছিল পিএসজি।
আক্রমণভাগে নেইমার-এমবাপ্পে-ডি মারিয়া প্রতিনিয়ত নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছিলেন প্রতিপক্ষদের। তবে সিটির রক্ষণের সামনে পড়তেই যেন নিজের ছায়া হয়ে গেলেন এমবাপ্পে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এদিনই প্রথম পুরো ম্যাচ খেলেও গোলমুখে কোনো শট নিতে পারেননি এই ফরাসি তারকা। নেইমার মাঝেমধ্যে সুযোগ তৈরি করলেও, ফাইনাল থার্ডে সুবিধা করতে পারেননি স্টোনস-ডিয়াজদের সামনে। এই বয়সেও মোটামুটি সফল ছিলেন ডি মারিয়াই। তার কর্নার থেকেই তো প্রথম গোলটা করেছিল পিএসজি।
টানেল থেকে ফেরার পর পিএসজি অনেকটা রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করলে মাঝ মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলায় সিটিজেনদের আটকানো আর সম্ভব হয়নি। কোনো পরীক্ষিত স্ট্রাইকার ছাড়া দলকে মাঠে নামালেও, কোচ পেপ গার্দিওলা ঠিকই বের করে আনেন ম্যাচ। ৬৪ মিনিটে ডি ব্রুইনের আউটসুইং বল বাতাশে বাঁক খেয়ে মাটিতে ড্রপ করে ঢুকে যায় স্বাগতিকদের জালে। ৭০ ফ্রিকিক পায় ম্যানসিটি। নেইমারদের দেয়াল ভেদে করে রিয়াদ মাহরেজের শট গোলে পরিণত ২-১।
দুদলের দ্বিতীয় লেগ আগামী মঙ্গলবার রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে হবে।