কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করুন

বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি ও কৃষক এখানকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে ফসল উত্পাদন করেন। কিন্তু ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলে উত্পাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন তাঁরা। সরকার চলতি বোরো মৌসুমে ১৮ লাখ টন ধান ও চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৭ মে থেকে মিলারদের কাছ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ৩৯ টাকা কেজি দরে দেড় লাখ টন আতপ চাল এবং কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে সাড়ে ছয় লাখ টন ধান কেনা হবে। গত বছরের তুলনায় ধানের দাম এক টাকা বেশি পাবেন কৃষকরা। চাল সরবরাহকারী ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি চালে পাবেন বাড়তি তিন টাকা। কৃষকের কাছ থেকে সরকার যে ধান সংগ্রহ করে তাতে কৃষকদের নির্বাচন করা হয় লটারির মাধ্যমে। অসচেতনতার ফলেই এর সুফল পুরোপুরি কৃষকরা পান না। মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকদের কাছ থেকে লটারির টিকিট কিনে নেওয়ায় তাঁরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। কৃষকদের সচেতন করতে হবে যাতে তাঁরা মধ্যস্বত্বভোগীদের ফাঁদে পা না বাড়ান। কিন্তু এ ব্যাপারে সেরকম কোনো উদ্যোগ বা প্রচারণা নেই। ধান উত্পাদনে কৃষকদের উত্সাহ বাড়াতে ও ন্যায্যমূল্যপ্রাপ্তিতে সরকারকে নজর রাখতে হবে। প্রতিটি এলাকায় সমবায় গড়ে তুলে কৃষকদের সংগঠিত ও সচেতন করে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।

মো. মাইদুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া