৩৯ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন শনাক্ত

দেশে করোনা ভাইরাসে গত এক দিনে শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৩৪১ জন। গত ৩৯ দিনে এটিই দেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সর্বনিম্ন সংখ্যা। এর আগে গত ২১ মার্চ ২ হাজার ১৭২ জন রোগী শনাক্তের তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ। প্রায় দেড় মাস পর করোনায় রোগী শনাক্তের হার ১০-এর নিচে নামল। এর আগে গত ২০ মার্চ করোনায় রোগী শনাক্তের হার ১০-এর নিচে ৯ দশমিক ৩৯-তে নেমেছিল। দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা হয়েছে ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৫ জন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জনের মৃত্যু হওয়ায় দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের মোট সংখ্যা ১১ হাজার ৩৯৩ জনে পৌঁছেছে। সরকারি হিসাবে আক্রান্তদের মধ্যে আরো ৪ হাজার ৭৮২ জন গত এক দিনে সেরে উঠেছেন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৭৭ হাজার ১০১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৩৫৮টি ল্যাবে ২৪ হাজার ৯২৮ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৫৪ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৮টি নমুনা। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪০ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৭টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হয়েছে ১৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৮১টি।

গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ আর নারী ৩৬ জন। তাদের ৫২ জন সরকারি হাসপাতালে, ৩৩ জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বাসায় মারা যান তিন জন। তাদের মধ্যে ৫৫ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১৫ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, তিন জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, দুই জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং এক জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল। মৃতদের মধ্যে ৪৮ জন ঢাকা বিভাগের, ২২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, চার জন করে মোট আট জন রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের, এক জন খুলনা বিভাগের, পাঁচ জন সিলেট বিভাগের, দুই জন করে মোট চার জন রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ১১ হাজার ৩৯৩ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৩২১ জনই পুরুষ এবং ৩ হাজার ৭২ জন নারী।

গত জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র। মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। চলতি বছরের মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিত্সাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিত্সাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই। জনস্বাস্থ্যবিদেরা জানান, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।