চমেকে ইন্টার্ন চিকিত্সকদের কর্মবিরতি অব্যাহত

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) অভ্যন্তরীণ চিকিত্সাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। করোনার মধ্যে পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাত্ ইন্টার্নদের কর্মবিরতিতে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। হাসপাতালে জরুরি চিকিত্সা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে চিকিত্সকদের কর্মবিরতির কারণে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্যাম্পাসে দলীয় বিরোধ নিয়ে হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা বন্ধ করা অনৈতিক। গত মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি নিয়ে একাধিক বার বৈঠকের পরও ইন্টার্ন চিকিত্সকরা তাদের দাবিতে অটল রয়েছেন।

চমেক হাসপাতালে গত কয়েক বছর যাবত্ ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য কোনো ছাত্র সংগঠনের তত্পরতা নেই। তারপরও ক্যাম্পাসে প্রায় সময় মারামারি লেগে আছে। ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্রুপ নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল অনুসারী। ক্যাম্পাসে আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে প্রায় সময়ই উত্তেজনা লেগে থাকে। কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কিছুসংখ্যক ইন্টার্ন চিকিত্সকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ফলে ছাত্রদের বিরোধের সঙ্গে ইন্টার্ন ডাক্তাররাও জড়িয়ে পড়ে।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার হাসপাতালের বাইরে দুই গ্রুপের কয়েক জন নেতাকর্মীর মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা নিয়ে হঠাত্ করে হাসপাতালে কর্মবিরতি শুরু করে ইন্টার্ন চিকিত্সকরা। এখানে প্রতিদিন অন্তত আড়াই হাজারের মতো রোগী চিকিত্সাধীন থাকে। তারমধ্যে মহামারি করোনা রোগী চাপও বেড়েছে। হাসপাতালে বর্তমানে ১১০ জন করোনা রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছেন। কর্মবিরতির কারণে সবাই চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। চমেক হাসপাতালে প্রায় ৩০৭ জন ইন্টার্ন চিকিত্সক রয়েছেন।

জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ূন কবির ইত্তেফাককে বলেন,  কে ইন্টার্ন ও কে বহিরাগত চিহ্নিত করা মুশকিল। তারা ঘটনার বিষয়ে  আমাদের অবহিত করেনি এবং বিচারও চায়নি। আমাদের কিছু না জানিয়ে হঠাত্ করোনাকালে তারা কর্মবিরতি শুরু করে দিয়েছে। ব্যবস্থা নিতে আমাদের সময় বেঁধে দিতে পারতেন। তারপরও আমরা ইন্টার্নিদের সঙ্গে বসে দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। এরই মধ্যে আমরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। হাসপাতালের উপ-পরিচালককে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ইন্টার্নিদের আইডি কার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু তারপরও তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করছে না। এমতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা স্বাভাবিক রাখতে সমস্ত চিকিত্সকদের সঙ্গে বসে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছি। ’

এদিকে ইন্টার্ন চিকিত্সকরা গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের দাবি নিয়ে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে। ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. ওসমান গণি ইত্তেফাককে বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বহিষ্কার করতে হবে এবং বহিরাগতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।’