বড় ধরনের প্ররোচনা আছে, এই আশঙ্কা থেকেই মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নেয় পুলিশ। মোসারাতের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ স্বপ্রণোদিত ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করেছে। বৃহস্পতিবার পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
এদিকে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশের পর বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের জামিনের আবেদনসহ ১৫টি আগাম জামিনের আবেদনের ওপর কোনো শুনানি গতকাল অনুষ্ঠিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, বর্তমান লকডাউন এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদনপত্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শুনানি গ্রহণ করা হবে না। পরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিচারপতি মামনুন রহমানের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ এজলাসে আসলে আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলেন, কোর্টের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় থাকা আগাম জামিনের আবেদনগুলো ভুলভাবে এসেছে। নির্দেশনা ছিল ভবিষ্যতে আসবে, কিন্তু আজ ভুলক্রমে এসেছে। সুতরাং আগাম জামিনের আবেদনের শুনানি হবে না।
এ প্রসঙ্গে সায়েম সোবহান আনভীরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, কোর্ট তো আমাদের জামিন আবেদন খারিজ করেনি। এ কারণে আবেদনটি বিচারাধীন রয়েছে। যেহেতু জামিন আবেদন বিচারাধীন সেহেতু আনভীরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানি করা উচিত নয়।
গুলশানের ডিসি কার্যালয়ের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, গুলশানের সেই ফ্ল্যাটে গিয়ে দেওয়ালে টানানো মোসরাতের সঙ্গে আনভীরের ছবি দেখা যায় এবং কয়েকটি ডায়েরি পায় পুলিশ। ডায়েরিগুলোয় ‘সুইসাইডাল নোটের’ মতো অনেক কিছু লেখা। তিনি বলেন, এসব দেখে পুলিশ অনুমান করে, মাত্র ২১ বছর বয়সে কোনো কারণ বা প্ররোচনা ছাড়া মেয়েটি আত্মহত্যা করতে পারে না। সে রাতেই পুলিশ যা যা তথ্য সংগ্রহ করার দরকার, তার সব সংগ্রহ করে এবং তাত্ক্ষণিক সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলা হয়। ঐ রাতে তিনিসহ, গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার, সহকারী কমিশনার, গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্যান্য কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ছিলেন।
মোসারাতের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আসামি প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। আসামি কোথায় জানতে চাইলে উপ-কমিশনার বলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসামি বাংলাদেশে আছেন। তিনি দুটি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। ঐ পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশত্যাগের কোনো রেকর্ড নেই।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে কি না, সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, তারা ২০২০ ও ২০২১ সালের লেখা ডায়েরি উদ্ধার করেছেন। ঐ ডায়েরিতে ধারাবাহিকভাবে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত লিখেছেন মোসারাত। একটি পৃষ্ঠায় তিনি বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে লিখেছেন। কিন্তু তাতে কোনো তারিখ ছিল না।
গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় মোসারাত জাহান মুনিয়া (২১) নামের ঐ তরুণীর লাশ গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাড়ির বি-৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। পরে ঐ দিন দিবাগত রাত দেড়টায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে গুলশান থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয় সায়েম সোবহান আনভীরকে।