চীন তাদের নতুন স্থায়ী মহাকাশ স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ মূল অংশ বা মডিউলটি উেক্ষপণ করেছে। চীনের ক্রমশই উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে ওঠা মহাকাশ কর্মসূচিতে এটি সর্বসাম্প্রতিক পদক্ষেপ। তিয়ানহে নামের এই মডিউলে রয়েছে নভোচারীদের থাকার জন্য ঘর। চীনের ওয়েনচাং মহাকাশ উেক্ষপণ কেন্দ্র থেকে লং মার্চ ফাইভবি নামের রকেটের মাধ্যমে এই মহাকাশ স্টেশনটি উেক্ষপণ করা হয়েছে। খবর বিবিসির
চীন আশা করছে, তাদের নতুন মহাকাশ কেন্দ্রটি ২০২২ সালের মধ্যেই কাজ করতে শুরু করবে। মহাকাশে এখন একমাত্র একটিই স্পেস স্টেশন আছে যেটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, যেটা চীনকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। চীন মহাকাশের কক্ষপথে এর আগে পাঠিয়েছে দুটি স্পেস স্টেশন। তিয়ানগং-১ এবং তিয়ানগং-২-এ দুটিই ছিল পরীক্ষামূলক মহাকাশ স্টেশন। এগুলো ছিল খুবই সাদামাটা ধরনের মডিউল যেখানে নভোচারীদের তুলনামূলকভাবে অল্প সময় থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বর্তমানের নতুন তিয়ানগং স্টেশনটির ওজন ৬৬ টন এবং এর অনেকগুলো মডিউল রয়েছে। এই স্টেশন কাজ করতে পারবে অন্তত ১০ বছর।
তিয়ানহে হলো এই স্থায়ী তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের মূল অংশ। এটির দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ৬ মিটার এবং প্রস্থ ৪ দশমিক ২ মিটার। এই মডিউল মহাকাশ স্টেশনে শক্তি সরবরাহ করবে এবং স্পেস স্টেশনটিকে কক্ষপথে ঘোরাবে। নভোচারীদের থাকার ব্যবস্থা এবং জীবনরক্ষার প্রযুক্তিও থাকবে এই মডিউলে। চীনের অন্তত আরো ১০টি একই ধরনের উেক্ষপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে কক্ষপথে অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম পাঠানো হবে। তাদের পরিকল্পনা হলো আগামী বছরের মধ্যে এই স্টেশন চালু করার কাজ সম্পন্ন করার। এই স্টেশনটি ৩৪০ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরত্বে পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবে।