পাবনায় ভূগর্ভস্থ স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানির তীব্র সংকট

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপ দিয়ে পানি না ওঠায় পাবনার জেলা সদরসহ ঈশ্বরদী, চাটমোহর, সাঁথিয়া, সুজানগর উপজেলায় খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সেহরি ও ইফতারের সময় তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। পানি সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তীব্র দাবদাহ।

এদিকে গত সপ্তাহে পাবনা সদর উপজেলার চরভবানীপুর গ্রামের শতশত মানুষ তীব্র দাবদাহ ও পানি সংকট থেকে মুক্তি পেতে নামাজ আদায় করেছে। নামাজ শেষে অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জেলার সুজানগর উপজেলার চরখলিলপুর এলাকার কৃষক আফতাব হোসেন বলেন, টিউবওয়েল তো দূরের কথা, এখন বিদ্যুৎচালিত পাম্প দিয়ে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। কিছু দিন আগে রাতে ও ভোরে কিছু পানি উঠত। এখন পুরোপুরি সময়ই পানি পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

জেলার সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের মেওয়াপুর ও রসুলপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান, শিল্পি ও আবু হোসেন জানান, দিনের বেলা পানি সংগ্রহ করে না রাখলে রাতে রোজা রাখতে সমস্যা হয়। আর আতাইকুলা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রহিম ও শামসুর রহমান জানান, পানির অভাবে যাদের সাব-মার্চেবল নলকূপ আছে তাদের ওখানে গিয়ে পানি নিয়ে আসি।

ক্ষেতুপাড়া গ্রামের পোলট্রি ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, পানির অভাবের কারণে আমি মুরগির বাচ্চা উঠাতে পারছি না। তৈলকুপী গ্রামের কয়েক জন বলেন, তাদের ১৫টি নলকূপের মধ্যে ১৩টিই অকেজো হয়ে গেছে। পাবনার সদরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, নলকূপ দিয়েও পানি উঠছে না। যার কারণে পাটের বীজগুলো মাটির ভেতরেই মরে যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহরাজ উদ্দিন শুক্রবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে পানির স্তর। প্রতি বছর তীব্র দাবদাহে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত এ অবস্থা থাকে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ সংকটে পড়েছেন চাষিরা। যার কারণে ধান, পাটসহ অন্য ফসলাদির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। অল্প সময়ের মধ্যে বৃষ্টি না হলে পাটের বীজ বের হবে না।’

ইত্তেফাক/এমআর