মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
মঠবাড়িয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনাবৃষ্টি ও গ্রীষ্মের দাবদাহে পুকুরের পানি শুকিয়ে গেছে। অপরদিকে খালের লবণাক্ত পানিও শুকিয়ে যাওয়া পুকুরের শ্যাওলাযুক্ত পানি ব্যবহারের ফলে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুসহ দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এদিকে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল ও বাজারে স্যালাইন সংকট দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, উপজেলায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কয়েক হাজার ডিপ টিউবওয়েল, পিএসএফ ও খনন করা পুকুর থাকলেও তার বেশির ভাগই ব্যবহারের অনুপযোগী। যার কারণে নদ তীরবর্তী এলাকায় তীব্র পানির সংকট চলছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য যে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ট্যাংক সরবরাহ করা হচ্ছে তা বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
উপজেলার বেতমোড় গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়া জানান, তাদের গ্রামের অধিকাংশ রিজার্ভ পুকুর এখন পানিশূন্য। পরিবারের নারী সদস্যরা ২/৩ মাইল পথ হেঁটে যে পানি সংগ্রহ করছেন তাও দূষিত। আর এসব পানি পান করেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রেজাউল কবীর জানান, উপজেলায় নলকূপের পানি লবণাক্ত হওয়ার কারণে পণ্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) ও রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হয় মানুষকে। উপজেলায় পর্যাপ্ত পিএসএফ থাকলেও পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। যার কারণে তীব্র পানি সংকট চলছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস ইসলাম প্রিন্স খাবার স্যালাইন থাকলেও কলেরা স্যালাইন সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রচণ্ড গরম, দূষিত পানি পান এবং সচেতনতার অভাবে ডায়রিয়ার রোগী বাড়ছে। প্রতিদিনই ৩০/৪০ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও প্রত্যন্ত এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উর্মী ভৌমিক জানান, প্রখর খরতাপে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। উপজেলাব্যাপী তীব্র পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।