উখিয়ায় শ্রমিক সংকটে ধান কাটা ব্যাহত

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা                 

উখিয়ায় বিস্তীর্ণ ধানখেতে বোরো চাষাবাদের সোনালি শিষের ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। পানিসংকটের কিছুটা চিন্তা থাকলেও তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে কৃষান-কৃষানিরা মাতোয়ারা। তবে শ্রমিকসংকটের কারণে অনেকের পাকা ধান কাটার সময় উতরে গেলেও ঘরে তুলতে পারছেন না। কৃষকরা মনে করছেন, এ সময় প্রকৃতির বিরূপ আচরণ না হলে বোরোর বাম্পার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলার সিকদার বিল গ্রামের মাস্টার জানে আলম জানান, পানির অভাবে কিছুটা সমস্যা হলেও ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বোরো চাষাবাদে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই আগেভাগে ধান ঘরে তোলার জন্য শত চেষ্টা করেও শ্রমিকসংকটের কারণে পারা যাচ্ছে না। আগে রোহিঙ্গা শ্রমিক দিয়ে কাজ করা সম্ভব হতো। বর্তমানে ক্যাম্পে কড়াকড়ি আরোপ করায় রোহিঙ্গারা বের হতে পারছেন না বিধায় শ্রমিকসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফলিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, মাছকারিয়া বিলে তিনি প্রায় পাঁচ একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছেন। কোনো প্রকার সেবা শুশ্রূষা ছাড়াই বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি জানান, এবার কানিপ্রতি ১০০ আড়ি ধান নিশ্চিত আশা করা হচ্ছে। তবে শ্রমিকসংকটের কারণে পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারায় বৃষ্টির আশঙ্কা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগতে হচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও গত বছর ফলন ভালো হওয়ায় এবার কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে বেশি জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছেন। পানিসংকট ও বিদ্যুত্ সমস্যা না থাকায় এবার বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে বলে অভিমত প্রকাশ করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ প্রসেনজিত্ তালুকদার। তিনি বলেন, কৃষকরা যাতে তাদের উত্পাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারে সে ব্যাপারে সহযোগিতা করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।