৯ মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ৩৯ শতাংশ

এপ্রিলে ২০৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনার মন্দার মধ্যে রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করেছিল তা এখনো অব্যাহত আছে। প্রতিমাসেই বাড়ছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ। ফলে রেমিট্যান্স কমে যাবে বলে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি। বছরের চতুর্থ মাস এপ্রিলেও রেমিট্যান্স বেড়েছে। গত মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশে ২ হাজার ৬৭ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭১২ কোটি টাকা।

রেমিট্যান্স বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রবাস আয়ের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকার জন্য সরকারের প্রবাসী আয় পাঠানোর নিয়ামকানুন সহজ করে দেওয়া, সময়োপযোগী ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সংস্কারমুখী পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। আমাদের এ অর্জন দিন দিন বেড়েই চলেছে, আমাদের প্রত্যাশা এটি আরো বাড়বে। এ বিষয়ে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। কাউকে হয়রানি করা হয় না, সময়মতো এর উপকারভোগীর হাতে পৌঁছে যায়—যার কারণে এটি দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং বাড়তেই থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা ২০৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৭ হাজার ৫৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৬৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৪৮৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩৯ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। বৈধ উপায়ে প্রবাসী আয় বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী, গত বছরের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠালে প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ২ টাকা প্রণোদনা পেয়ে আসছেন। এর ফলে করোনার মধ্যেও রেকর্ড গড়ছে রেমিট্যান্স। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে মন্দা কাটাতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৫ হাজার ডলার বা প্রায় ৫ লাখ টাকা কোনো যাচাইবাছাই ছাড়া ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। যা আগে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো যাচাইবাছাই ছাড়া নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল।

এদিকে গত নভেম্বরে রেমিট্যান্স পাওয়া আরো সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংক রেমিটারের কাগজপত্র নিজ দায়িত্বেই যাচাই করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ ছাড় করার জন্য রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংকের কাছে ‘কনফারমেশন’ পাঠাবে। তার ভিত্তিতে রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংক বরাবর প্রণোদনার টাকা ছাড় করবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রেমিট্যান্স বাড়ার কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়াকে নির্দেশ করে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মজুত থাকলে তাকে ঝুঁকিমুক্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়। বাংলাদেশের কাছে এখন যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আছে তা দিয়ে ১০ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। কিছুদিন আগে ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।