বিজ্ঞান
আসাদ-উজ- জামান, শিক্ষক
সরকারি মোহাম্মদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System)
প্রাণিদেহের যে তন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সংযোগ রক্ষা করে, বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন করে এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করার মাধ্যমে পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
স্নায়ুতন্ত্রকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ২। প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র
৩। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র: স্নায়ুতন্ত্রের যে অংশ দেহের কেন্দ্র বা অক্ষ বরাবর অবস্থিত তাকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বলে। মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু নিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র গঠিত।
মস্তিষ্ক (Brain):কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের যে স্ফীত অংশ করোটির মধ্যে অবস্থান করে তাকে মস্তিষ্ক বলে। মস্তিষ্ক মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। মানুষের মস্তিষ্ক প্রধান তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
১। অগ্র মস্তিষ্ক / গুরু মস্তিষ্ক ২। মধ্য মস্তিষ্ক
৩। পশ্চাত্ মস্তিষ্ক / লঘু মস্তিষ্ক
অগ্র মস্তিষ্ক:এটি মস্তিষ্কের প্রধান অংশ। অগ্র মস্তিষ্ক তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা:সেরিব্রাম, থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস।
সেরিব্রাম:সেরিব্রাম মস্তিষ্কের প্রধান অংশ যাকে গুরু মস্তিষ্ক বলে। এটি ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফেয়ার নামে দুটি অংশে বিভক্ত। সেরিব্রামের উপরিভাগ ঢেউ তোলা ধুসর বর্ণের, একে গ্রে ম্যাটার বলে। ভিতরের স্তরে স্নায়ুতন্ত্র থাকে যার রং সাদা তাই একে হোয়াইট ম্যাটার বলে।
কাজ:দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, পেশি চালনা, ইচ্ছা ইত্যাদি।
থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস:এরা সেরিব্রামের নিচের অংশ। ক্রোধ, লজ্জা, গরম, শীত, নিদ্রা, তাপ সংরক্ষণ, চলন ইত্যাদি কাজ করে।
মধ্য মস্তিষ্ক :অগ্র ও পশ্চাত্ মস্তিষ্কের মাঝখানে অবস্থান করে এদেরকে সংযুক্ত করে। এরা দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তির কাজে সহায়তা করে।
গুরু মস্তিষ্ক ও লঘু মস্তিষ্কের পার্থক্য ঃ
পশ্চাত্ মস্তিষ্ক:মধ্য মস্তিষ্কের নিচে অবস্থিত। এরা গুরু মস্তিষ্কের চেয়ে আকারে ছোট। দেহের ভারসাম্য রক্ষা, কথা বলা, চলাফেরা নিয়ন্ত্রনএদের কাজ। এটি তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা-
ক. সেরিবেলাম খ. পনস গ. মেডুলা
মেডুলার কাজ:হূদস্পন্দন, শ্বসন, খাদ্যগ্রহণ।
প্রতিবর্ত ক্রিয়া: যেসব উদ্দীপনার প্রতিক্রিয়া মস্তিষ্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে সুষুম্না কাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে। প্রতিটি প্রতিবর্ত চক্রের পাঁচটি অংশ থাকে। যথা:
১। গ্রাহক যন্ত্র
২। অনুভূতিবাহী স্নায়ু
৩। প্রতিবর্ত কেন্দ্র
৪। আজ্ঞাবাহী স্নায়ু
৫। সাড়ার অঙ্গ
ব্যাখ্যা:কোনো কারণে হাতে পিন ফুটলে তাত্ক্ষনিকভাবে হাত অন্যত্র সরে যায়।
এটি একটি প্রতিবর্ত ক্রিয়া। এ ক্রিয়াটি যেভাবে ব্যাখ্যা করা যায় তা হলো:
হাতের চামড়ায় পিন ফোটামাত্র গ্রাহক যন্ত্র পিন ফোটার যন্ত্রণা গ্রহণ করে।
এই যন্ত্রণাদায়ক তাড়না অনুভূতিবাহী স্নায়ুর মাধ্যমে প্রতিবর্ত কেন্দ্রে পৌঁছায়।
প্রতিবর্ত কেন্দ্র প্রতিবেদন সৃষ্টি করে আজ্ঞাবাহী স্নায়ুকে প্রেরণ করে।
আজ্ঞাবাহী স্নায়ু উক্ত বেদনা সারার অঙ্গ অর্থাত্ পেশিতে প্রদান করে।
এতে পেশি সংকুচিত হয় এবং যন্ত্রণার উত্স থেকে হাত সরিয়ে দেয়।