নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নাব্য হারিয়ে ধুঁকছে নেত্রকোনার অন্যতম বৃহত্ মগড়া, কংশ, গুমাই, বেতাই, সোয়াইর, গোলামখালি এবং পাহাড়ি খরশ্রোতা সোমেশ্বরী নদী। ৫০ বছর আগেও যে নদীগুলো ছিল নৌ-বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম, সে সকল নদীতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে নৌচলাচল। বর্তমানে এই সমস্ত নদীর বুকে প্রতিবছরই আবাদ হচ্ছে বোরো ধান। এতে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নদীগুলো। নদী সংশ্লিষ্টদের অভিমত, জরুরি ভিত্তিতে খনন কাজ না করা হলে এক সময় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে নদীগুলো।
জানা যায়, এক সময় নেত্রকোনার মগড়া নদী দিয়ে ৫০০ মণী ধান ও পাটের নৌকা চলাচল করত। চলাচল করত লঞ্চ আর স্টিমার। এখন আর তা হয় না। নেত্রকোনা শহরের মালনী রোড ছিল নৌঘাট। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় এখন এখানে আর নৌকা ভিড়ে না। ২০১৭ সনে ২৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা নদী রক্ষা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে তত্কালীন জাতীয় নদী রক্ষা কমিটির সার্বক্ষণিক সদস্য মো. আলাউদ্দিন উপস্থিত থেকে নেত্রকোনার নাব্য হারিয়ে যাওয়া বড় বড় নদীগুলোর খনন কাজের কথা বলেছিলেন। নদীর স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত রাখার জন্য নদীর উভয় তীর থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের প্রস্তাবও নেওয়া হয়েছিল। গত বছর ২০২০ সনে নেত্রকোনা শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মগড়া নদীর দুপাড় থেকে বেশ কিছু অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু নদী খননের কাজটি অদ্যাবধি হয়নি।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, নদী খননের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গোচরে আনা হয়েছে। কংস নদীর খনন কাজ গত বছর করা হয়েছে। মগড়াসহ অন্যান্য নদীও খনন করা হবে। নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, মগড়া, কংশ এবং সোমেশ্বরী নদী খননের বিষয়টি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন। তারা বিষয়টি দেখছেন।