মান্দা ফেরিঘাট-পাঁঠাকাটা সড়ক খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচল ব্যাহত

মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতা

কার্পেটিং উঠে গেছে অনেক আগেই। কোথাও কোথাও খোয়া-বালুর আস্তরণ পর্যন্ত নেই। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুই পাশ ভেঙে সংকুচিত হয়ে গেছে রাস্তাটি। দুর্ঘটনা এড়াতে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করছে এলাকার মানুষ। বেহাল এ রাস্তাটি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ফেরিঘাট থেকে পাঁঠাকাটা-শিবগঞ্জ হয়ে সংযুক্ত হয়েছে মহাদেবপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে। আত্রাই নদীর পূর্বতীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এটি। যানবাহন চলাচলের জন্য এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ২০০৫ সালে রাস্তাটিতে কার্পেটিং করা হয়। এরপর রাস্তাটি নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিকট হস্তান্তর করে এলজিইডি। এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে রাস্তাটি। 

দোসতিনা গ্রামের মাজেদুর রহমান, দক্ষিণ পারইল গ্রামের ওসমান আলী প্রামাণিক ও মাস্টার আবুল কালাম আজাদ, সূর্য নারায়ণপুর গ্রামের আবদুল কাইয়ুম ও খাইরুল ইসলাসসহ আরো অনেকে জানান, ফেরিঘাট থেকে মান্দার সীমানা পাঁঠাকাটা পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। বর্তমান এ ৮ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে চলাচলের উপায় নেই। পাকাকরণের পর এ রাস্তা দিয়ে একসময় বালুবাহী ট্রাক্টর ও ট্রাক বেপরোয়া চলাচল করেছে। এ কারণে রাস্তাটি খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। দোসতিনা গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম বশির জানান, বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়রা ছাড়া দূরদূরান্তের মানুষ এ পথে আর চলাচল করে না। রাস্তাটি ভেঙে সংকুচিত ও দুর্বল হয়ে পড়ায় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাঁধে এসে আঘাত হানলে এলাকাবাসীর নির্ঘুম রাত কাটে। এ সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় রাত জেগে পাহারা দিতে হয় তাদের। অবিলম্বে রাস্তাটি মেরামতের জোর দাবি জানান তিনি। মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মোরশেদুল হাসান বলেন, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে রাস্তাটি পাকাকরণের কিছুদিন পর নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ‘রাস্তাটি তার দপ্তরের অধীনে আসার পর টুকটাক কাজ ছাড়া তেমন কিছুই করা হয়নি। বতর্মানে শিবগঞ্জ বাজার থেকে শিবগঞ্জ মোড় পর্যন্ত ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার রাস্তায় কাজ চলছে। তিনি আরো বলেন, মান্দা ফেরিঘাট থেকে শিবগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার রাস্তার কাজের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরে কাজটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।