স্বাভাবিক অর্থনীতি অর্থাত্ করোনার আগের বছরের বিবেচনায় রপ্তানি কমেছে
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সদ্যসমাপ্ত এপ্রিল মাসে রপ্তানি বেড়েছে গত বছরের এপ্রিলের তুলনায় ৫০২ শতাংশ! তা সত্ত্বেও গত মাসে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ৩৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৩১৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের। অর্থাত্ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে গত মাসে রপ্তানি কমেছে প্রায় ২২ কোটি ডলার বা ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ। অবশ্য এ বছর অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধির দেখা যাওয়ার কারণ হলো, গত বছরের এপ্রিলে দেশব্যাপী লকডাউনে শিল্পকারখানা বন্ধ ছিল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। ফলে আলোচ্য মাসে রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৫২ কোটি ডলারের পণ্য। স্বাভাবিকভাবে প্রতি মাসে বাংলাদেশ গড়ে ৩০০ কোটি ডলারের ওপরে পণ্য রপ্তানি করে। এদিকে গত মাস থেকে দেশব্যাপী লকডাউনে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকলেও শিল্পকারখানা ও আমদানি-রপ্তানি চালু রয়েছে। ফলে লকডাউন রপ্তানিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। এতে রপ্তানি অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত এপ্রিলের রপ্তানিতে অস্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও এটিই স্বাভাবিক।
এপ্রিলের রপ্তানিতে বড় প্রবৃদ্ধি হিসেবে গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের তুলনায় (জুলাই-এপ্রিল) চলতি অর্থবছরের একই সময়ের চিত্রও পরিবর্তন করে ফেলেছে। গত মার্চ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সার্বিকভাবে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি না হয়ে কমে গিয়েছিল। সেখানে কেবল এক মাসের উল্লম্ফনেই জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে রপ্তানি বেড়েছে পৌনে ৯ শতাংশ। তবে রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার সময়ের সঙ্গে হিসাব করলে প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে। কিন্তু করোনার আগের অর্থাত্ স্বাভাবিক অর্থনীতির গতির সঙ্গে হিসাব করলে রপ্তানি বাড়েনি বরং কমতির দিকে।
ইপিবির পরিসংখ্যানও তাই বলছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনার আগের স্বাভাবিক অর্থনীতি অর্থাত্ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে রপ্তানি করেছিল ৩ হাজার ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ডলারের পণ্য। আর চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৩৬২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের। অর্থাত্ স্বাভাবিক অর্থনীতির বছরের বিবেচনায় গত ১০ মাসে রপ্তানি বাড়েনি, বরং কমেছে প্রায় ৩১ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অবশ্য করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেও সাম্প্রতিক রপ্তানির চিত্রকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় রপ্তানির এই চিত্র মন্দ নয়। তবে আমাদের রপ্তানির ক্ষেত্রে এক পণ্যনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাস্তবতার আলোকে যেসব পণ্যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ভালো করার সুযোগ রয়েছে, সেখানে মনযোগ বাড়াতে হবে। এছাড়া বাজার বহুমুখীকরণেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
ইপিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অর্থবছরের গত ১০ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো পণ্যের রপ্তানি কমেনি, বরং বেড়েছে। রপ্তানি ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় সোয়া ছয় শতাংশ।