সত্যতা স্বীকার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার
মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
সিংগাইর-সিরাজপুর সড়কের পাশে শায়েস্তার ঋষিপাড়াতে জলাশয় ভরাট করে সরকারি ২৮ শতাংশ জমি জমি দখল করে নিয়েছেন রাজু আহমেদ কিনু নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী। স্থানীয় সরকারের অধিগ্রহণ করা ঐ জমির বাজার মূল্য অন্তত ১ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, সড়কের পাশের মূল্যবান কড়ইগাছও কেটে নিয়েছেন তিনি। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে কাটাগাছ উদ্ধার করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে পাঠানো হলেও জলাশয় ভরাটের কাজ রহস্যজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। তারা জানান, দীর্ঘ দিন এ ভরাট কাজ চলছে অথচ প্রশাসন থেকে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় ভূমি অফিস দেখেও না দেখার ভান করছে। তাদের ম্যানেজ করে সবকিছু করা হচ্ছে বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুল হক শামিম বলেন, ‘ভূমি অফিস চুপচাপ, তাই আমি নিজে গাছকাটার কথা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জানিয়েছি এবং কাটাগাছ নিজেই সংশ্লিষ্ট অফিসে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এসবের প্রতিবাদ করায় এখন ইউএনও আমাকেই শোকজ করতে চান।’ জানা গেছে, ইউএনও অফিসের কর্মচারী জনৈক রেজাউলের ভাতিজা এই রাজু আহমেদ কিনু।
এদিকে ইউপি সদস্য ফজলুল হক শামিম, এলাকাবাসী সুভাষ চন্দ্র দাস, মো. ইশার আলী, আব্বাস আলী, আবদুল হকসহ অন্য কৃষকরা জানান, জলাশয় ভরাট করার কারণে এখানে স্থানীয় সরকারের অধীন যে ব্রিজটি রয়েছে তার উত্তর পাশের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীন সড়কের উত্তর পাশে সদ্য নির্মিত ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজের মুখও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই কারণে পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকলে বৃষ্টিতে এবং আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে শতশত কৃষকের হাজার হাজার বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা জানান, একই ব্যক্তি সড়কের নিচ থেকে ১৫/২০ ফুট সরকারি জায়গা ও ভরাট করছেন গাইডওয়াল অতিক্রম করে। এদিকে একই সড়কের শ্যামনগরে ও খাল দখল করে জুরান হাজী নামে এক ব্যক্তি কয়েকটি দোকানঘর তৈরি করছেন।
জলাশয় ভরাট ও সড়কের পাশের সরকারি জমি বেদখল হওয়ার কথা স্বীকার করে শায়েস্তা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা উম্মে সালমা বলেন, ‘জলাশয়সহ স্থানীয় সরকারের অধিগ্রহণ করা ২৮ শতাংশ জমি ভরাট করে উল্লিখিত ব্যক্তি অপরাধ করেছেন। এতে বাধা দিয়েছি। কিন্তু তিনি রাতের বেলায় মাটি ফেলছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। এ ছাড়া গাছ উদ্ধার করে উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। আমাকে ম্যানেজ করার অভিযোগ সঠিক নয়।’