সোনারগাঁও থানায় মামলা
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
সোনারগাঁওয়ে জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় মালিককে অপহরণ করে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক ক্ষুদ্র শিল্প মালিকের বিরুদ্ধে। রবিবার বিকালে নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নবীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহূত জমির মালিককে রাতে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পাঁচ জনকে আসামি করে অপহূত মো. খাবির আহম্মেদ বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের চরকামালদী গ্রামের মৃত আবদুল মতিনের ছেলে খাবির আহম্মেদের নবীনগর এলাকায় হামেশা গ্রুপের পাশে তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এক খণ্ড জমি বিক্রির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঐ জমি হামেশা গ্রুপের মালিক আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদ মাওলানা কম দামে ক্রয়ের জন্য পাঁয়তারা করে আসছেন। সম্প্রতি জমিটি বেশি দামে জনৈক অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি বাবদ ৩ লাখ টাকা বায়না নেন। টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বায়না নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে খাবির আহম্মেদকে চৌরাপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে আসাদুল ইসলাম ওরফে আসাদ মাওলানার নেতৃত্বে তার লোকজন অপহরণ করে হামেশা গ্রুপের কারখানায় আটক করে নির্যাতন করে। এ সময় অপহরণকারীরা ২৫ লাখ টাকার বায়না দলিলে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তাকে হত্যার ভয়ভীতি দেখায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাবির আহম্মেদকে উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। আহত খাবির আহম্মেদকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়।
আসাদুল ইসলাম ওরফে আসদ মাওলানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘খাবির আহম্মেদ আমার কাছে জমি আগে এক লাখ টাকায় বায়না করে বিক্রি না করে সেই জমি অন্যত্র আবারও বায়না করেছেন। এ বিষয়ে তাকে ডেকে এনে জানতে চেয়েছি। অপহরণের বিষয়টি সঠিক নয়।’ নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ইউসুফ দেওয়ান জানান, আসাদ মাওলানার ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক বিচার-সালিশ ডাকা হয়েছে। তাকে নোটিশ করা হলে তিনি তোয়াক্কা করেন না। মানুষের জমি জোরপূবর্ক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।’সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।