ভারতে অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু বাড়ছেই

ভারতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি তো দূরের কথা বরং প্রতিদিনই বেহাল হচ্ছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির জেরে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ভারতে এখন মোট সক্রিয় রোগী ৩৪ লাখের বেশি। এতসংখ্যক রোগীকে চিকিত্সা পরিষেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো। এ পরিস্থিতির জেরে দেশে অক্সিজেনের চাহিদাও আকাশ ছুঁয়েছে। এর অভাবে মৃত্যু বেড়েই চলছে। অস্থায়ী হাসপাতাল চালু হলেও অব্যবস্থাপনার কারণে সেখানে রোগী ভর্তি হচ্ছেন না। রাস্তায়ও অনেক করোনা রোগীকে চিকিত্সা নিতে দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে তৃতীয় দফার টিকাকরণ। খবর সিএনএন, আলজাজিরা ও আনন্দবাজার পত্রিকার

অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যু বাড়ছে

রবিবার রাতে কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে         চামারাজানগর জেলায় একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সা চলাকালে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ২৪ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৩ জনই কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালটিতে অন্তত ১৪৪ জন রোগীর চিকিত্সা চলছে। রাজ্য সরকার ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার দিল্লির বাত্রা হাসপাতালে অক্সিজেন শেষ হয়ে যাওয়ায় ১২ করোনা রোগীর মৃত্যু ঘটে। গত ২৩ এপ্রিল রাতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতির কারণে ২৫ জনের মৃত্যু হয়। এর দুই দিন আগে মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাসিক শহরে জাকির হুসেইন মিউনিসিপ্যাল হাসপাতালের অক্সিজেন ট্যাংকে ছিদ্র হওয়ায় প্রায় ৩০ মিনিট নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল। এতে ঐ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ২২ জন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু হয়।

শনাক্ত ও মৃত্যু বাড়ছেই

শনিবার দেশের দৈনিক সংক্রমণ ৪ লাখ ছাড়িয়েছিল। রবিবার এবং সোমবার তা কিছুটা কমেছে। অবশ্য শনিবারের তুলনায় এ দুই দিন করোনা পরীক্ষাও হয়েছে কম। গতকাল সোমবার দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৪৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত ১ কোটি ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৬০৪ জন। সংক্রমণের মতো ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যুও একটু কমেছে। যদিও তা সাড়ে ৩ হাজারের কাছেই রয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৪১৭ জনের। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৫৯ জনের।

ভারতের অস্থায়ী হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার কারণে রোগী ভর্তি হচ্ছেন না। গত ফেব্রুয়ারি মাসে করোনা ভাইরাস হ্রাস পেয়েছে এই ধারণায় অস্থায়ী সর্দার প্যাটেল কোভিড কেয়ার সেন্টারটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু গত ২৬ এপ্রিল ৫০০ বেডের হাসপাতালটি আবার চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়। হাসপাতালের বাইরে রোগীর ভিড় দেখা গেলেও ভর্তির সংখ্যা কম। আবার ভর্তি হওয়ার পর অনেকে বের হয়ে আসছেন। কারণ সেখানে অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক রোগীর মৃত্যু ঘটছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।