২০৯ রানে হার

লঙ্কান ঘূর্ণিজালে কাবু বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপর্যস্ত সময়টা যেন কিছুতেই কাটছে না। হারের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছেন মুমিনুল-মুশফিকেরা। জয়ের রথে ফেরার আশা পূরণ হয়নি শ্রীলঙ্কা সফরেও। তিন ফরম্যাটে টানা ১০ ম্যাচে অধরা রইল ‘জয়’।

ক্যান্ডিতে গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে শ্রীলঙ্কার কাছে ২০৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট ড্র হলেও শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেছে সফরকারীরা। এতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০তে জিতে নিল শ্রীলঙ্কা।

স্পিনবান্ধব উইকেটে ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষেই হার চোখ রাঙাচ্ছিল বাংলাদেশকে। ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে জয়ের জন্য ২৬০ রান দরকার হলেও হাতে ছিল মাত্র ৫ উইকেট। গতকাল বাংলাদেশের হারের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে সময় লাগেনি। শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের ঘূর্ণি তোপে সকালে এক ঘণ্টা ২০ মিনিটেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায়। ২২৭ রানে অলআউট হয় মুমিনুল হকের দল।  

আগের দিনের ৫ উইকেটে ১৭৭ রান নিয়ে খেলতে নেমে গতকাল অবশিষ্ট ৫ উইকেটে ৫০ রান যোগ করতে পেরেছে বাংলাদেশ। দিনের তৃতীয় ওভারে লিটন দাসকে (১৭) ফেরত পাঠান বাঁহাতি স্পিনার প্রাভিন জয়াবিক্রমা। পরে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে হারের ব্যবধান কমানোর কাজ করেছেন মিরাজ। জয়াবিক্রমার বলে আউট       হওয়ার আগে তিনি ৩৯ রানের ইনিংস খেলেছেন।

রাহীকে এলবির ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশের ইনিংসের লেজটা গুটিয়ে দেন এই লঙ্কান স্পিনার। ৮৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েন তিনি। প্রথম ইনিংসেও ৯২ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন জয়াবিক্রমা। দুই ইনিংসে ১৭৮ রানে ১১ উইকেট নিয়ে অভিষেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। একই সঙ্গে টেস্টের ইতিহাসে অভিষেকেই বাঁহাতি স্পিনারদের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এটি। প্রত্যাশিতভাবে ম্যাচ-সেরাও হয়েছেন জয়াবিক্রমা। সিরিজ-সেরার পুরস্কার পান লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। অফ স্পিনার রমেশ মেন্ডিস ১০৩ রানে ৪ উইকেট পান। 

সিরিজ হেরে আজ ঢাকায় ফিরছে বাংলাদেশ টেস্ট দল। দুপুর সাড়ে ১২টায় কলম্বো থেকে ঢাকার উদ্দেশে বিমানে চড়বেন মুমিনুল-তামিমরা।