আলম সাব্বির, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
তাহিরপুর থেকে মধ্যনগর পর্যন্ত ব্লক দিয়ে নির্মাণ করা সাবমারসিবল সড়ক বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। উঁচু-নিচু অবস্থা, বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে ভরে উঠেছে এই সড়ক। এই সড়কে চলতে না পেরে পাশের কাঁচা রাস্তায় চলাচল করছেন মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে হাওর এলাকার নিচু সড়কে ব্লক স্থাপন অথবা আরসিসি ঢালাই করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়, এজন্যই এই রাস্তার নাম সাবমারসিবল সড়ক।
সড়কের উঁচু-নিচু খানাখন্দ পেরিয়ে যাচ্ছিলেন দুই মোটরসাইকেলের যাত্রী। তারা জানান, তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তারা বলেন, ‘কবে এই সড়ক মেরামত করা হবে আর আমাদের ভোগান্তি কিছুটা কমবে। এর চাইতে বর্ষাই ভালো। নৌকায় আসা-যাওয়ায় তত ভোগান্তি নাই।’ এ পথ ধরে উপজেলা সদরে প্রতিনিয়ত যাচ্ছেন দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের মানুষ। মধ্যনগর থানা ও ধর্মপাশা উপজেলার মানুষ জরুরিভাবে যাচ্ছেন জেলা সদর সুনামগঞ্জে। এছাড়া এই পথ ধরে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ কিংবা নেত্রকোনা জেলায় যাতায়াত করতেও সমস্যা হয়। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তাহিরপুর সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর মধ্যনগর সাবমারসিবল সড়কে তাহিরপুর অংশে ১৬ কিলোমিটার সড়ক পথ রয়েছে। উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাঁও গ্রামের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার। এ গ্রামের ইউপি সদস্য লিপি বেগম। তিনি প্রতিদিনই তাহিরপুর উপজেলা সদরে আসেন। তার মতে এই সড়কে এক বার যে আসে দ্বিতীয় বার সে আর আসতে চাইবে না।
মধ্যনগর থানার শিক্ষাবিধ গোলাম জিলানি বলেন, হেমন্তকালে আমাদের এই পথ দিয়ে জেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমানে সড়কটির তাহিরপুর অংশের ১৬ কিলোমিটার সড়কই অত্যন্ত খারাপ, উঁচু-নিচু ব্লকের সড়ক পাড়ি দিতে গিয়ে প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে শরীরে ব্যথা হয়ে যায়। তাহিরপুর মধ্যনগর সড়কে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক আজহারুল। তিনি বলেন, বর্তমানে সাবমারসিবল সড়কের যে অবস্থা তার চাইতে মাটির আঁকাবাঁকা পথে চলাচল করা অনেক ভালো। দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাঠাবুকা গ্রামের রিপসান হাবিব বলেন, সড়কটি ভালো থাকলে এই সড়কে অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচল করত। ভালো না থাকায় সে ব্যবস্থা নেই। উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে যাতায়াত করতে খুবই কষ্ট হয়। দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার বলেন, হেমন্তে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সাবমারসিবল সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগের অনুপযোগী হয়ে গেছে। বর্তমানে এই সড়ক দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা খুব কষ্ট। তাই সড়ক থাকা সত্ত্বেও সবাই সড়কের পাশে মাটির রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করি। তাহিরপুর উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, সড়কের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। আমরা সাব-মারসিবল সড়কটি মেরামতের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প পাঠিয়েছি। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাহিরপুর-মধ্যনগর রাস্তাটি পুনরায় মেরামত ও সংস্কার করা হবে।