বিভিন্ন সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রবেশের জন্য অথবা সেই ওয়েবসাইটের তথ্য জানার জন্য বিশেষ ধরনের প্রযুক্তি ও পদ্ধতি তৈরি ও ব্যবহার উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। গতকাল মঙ্গলবার ‘প্রতিবন্ধী মানুষের ওয়েবসাইটে প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি’ বিষয়ক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এ দাবি জানান।
বেসরকারি সংস্থা ইপসা ও বিভিআইপিএসের সহযোগিতায় মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আয়োজিত এ ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি ডিভিশনের সিনিয়র সেক্রেটারি এন এম জিয়াউল আলম। অনেকগুলো সংস্থার ওয়েবসাইট ভিজিট করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কনসালটেন্ট ভাস্কর ভট্টাচার্য ‘ওয়েব এ্পিসিবিলিটি রিপোর্ট বাই আইডেনটিফাইং গ্যাপস অ্যান্ড ব্যারিয়ারস উইথ রিকমেনডেশনস অ্যান্ড গাইডলাইন’ শীর্ষক এই অডিট রিপোর্টটি তৈরি করেছেন।
ওয়েবিনারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিবন্ধী মানুষ যেন সহজেই সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করে কাজ চালাতে পারেন এবং তারা যেন ওয়েবের মাধ্যমে আরো বেশি করে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করতে পারেন। ওয়েবে প্রবেশাধিকার মানে হলো, যে কোনো ব্যক্তি বিশেষ করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ যেন ওয়েবপেজটি দেখতে ও বুঝতে পারেন। কেননা দেশের অধিকাংশ সংস্থার ওয়েব পোর্টাল এবং ওয়েবপেজ প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়। সাধারণত কী কী ধরনের অসুবিধা ভোগ করেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অডিট প্রতিবেদনটিতে তা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো কী কী প্রযুক্তি হতে পারে, সে প্রসঙ্গে ওয়েবিনারে বক্তারা বলেন, মোবাইল, স্ক্রিন রিডিং সফটওয়্যার, স্ক্রিন ম্যাগনিফায়ার, ব্রেইল ডিসপ্লে, স্মার্টফোনে নির্দিষ্ট অ্যাপ। এছাড়াও যে কোনো ইমেজ বোঝার জন্য বিকল্প টেক্সট, ডায়াগ্রাম এবং চার্ট দিতে হবে। সহজ সাবটাইটেল ও প্রতিলিপি থাকতে হবে, সহজ লে-আউটসহ আরো বেশ কয়েকটি উপায় আছে। তবে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রবেশাধিকার অডিট করাবে যেন তাদের প্রতিষ্ঠানের ওয়েবপেজ প্রতিবন্ধীবান্ধব হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। এছাড়া বক্তব্য দেন— বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অতিরিক্ত পরিচালক মাকসুদুর রহমান ভুঁইয়া, ইপসার প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান, সিডিডির নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম নোমান খান, জেপিইএফের পরিচালক হামিদুল হক এবং কেবিনেট ডিভিশনের যুগ্ম-সচিব এবং যুগ্ম-প্রকল্প পরিচালক ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ কবির।