ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ২২ হাজার ৪০৮ জন। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এই তথ্য। এদিকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস) এর পরিচালক রণদীপ গুলেরিয়া করোনা ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা এবং লকডাউনেও তার প্রতিরোধ করা কঠিন হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
ভারতে দৈনিক করোনা সংক্রমণ গত তিন দিন ধরেই একটু হলেও কমেছে। শনিবার তা ৪ লাখ ছাড়িয়েছে। রবিবার ৩ দশমিক ৯২ লাখ, সোমবার ৩ দশমিক ৬৮ লাখের পর মঙ্গলবার দেশে আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২২৯ জন। কমলেও যত লোক ভারতে আক্রান্ত হচ্ছে, তা বিশ্বে কোনো দেশে গোটা মহামারি পর্বে হয়নি। সব মিলিয়ে ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে গেল। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়েছিল গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর। করোনার জেরে দৈনিক মৃতের সংখ্যা গতকাল মঙ্গলবার মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৯ জনের। সেই সঙ্গে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে পৌঁছেছে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ১৩৩ জনে।
তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা ভারতে
করোনা সংকটের মেঘ কাটার কোনো ইঙ্গিত নেই এখনো। এই আবহে নতুন আশঙ্কার কথা শোনালেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস) এর পরিচালক রণদীপ গুলেরিয়া। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিপর্যস্ত ভারতবাসীকে তার বার্তা, অদূর ভবিষ্যতেই তৃতীয় ঢেউ আঁছড়ে পড়তে পারে দেশটিতে। মহামারি মোকাবিলায় সপ্তাহান্তিক লকডাউন, আংশিক লকডাউন বা রাত্রীকালীন কারফিউর মতো বিধিনিষেধে কোনো কাজ হবে না বলেও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, কোভিড-১৯ সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে দীর্ঘকালীন লকডাউনের পথে হাঁটতে হতে পারে।
তিনটি বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন রণদীপ গুলেরিয়া। প্রথমত, হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে জোর দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংক্রমণ ঠেকাতে অতিসক্রিয়তা দেখাতে হবে। তৃতীয়ত, টিকাকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে। অক্সিজেন সরবরাহের মতো আপত্কালীন বিষয়গুলোতে আরো গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।