টাকা পাচারকারীদের দিকে নজর দিন

দেশের টাকা যারা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে তাদের দিকে সরকারকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা ও মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর। গতকাল মঙ্গলবার আসন্ন বাজেট নিয়ে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজনীতিবিদ ও আমলাদের সহযোগিতায় যারা দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের দিকে নজর দিন।

ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সহযোগিতায় এ আলোচনার আয়োজন করে হিসাববিদদের প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। ‘সামষ্টিক অর্থনীতি : ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রত্যাশা’ শীর্ষক ঐ আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান খসরুর সভাপতিত্বে এতে অর্থনীতিবিদ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী  নেতারা আগামী বাজেট নিয়ে তাদের প্রত্যাশা তুলে ধরেন।

এ সময় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং অর্থনীতিবিদরা কালোটাকা বিনিয়োগ করার সরকারের বিদ্যমান নীতির সমালোচনা করেন। ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর বলেন, ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালোটাকা সাদা হচ্ছে। আর অর্থমন্ত্রী খুশি হয়ে বলছেন, অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার তো সেটা ভালো লাগে না। কারণ আমি সাড়ে ৩২ শতাংশ কর দিই।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো সাদা করা ঠিক হবে না উল্লেখ করে বলেন, আমি যদি ৩২ শতাংশ কর দিই, তাহলে কালোটাকার ক্ষেত্রে এই করের ওপর আরো ১০ শতাংশ জরিমানা থাকতে হবে। ঢালাও সব খাতে কালো বিনিয়োগের সুযোগ না দিয়ে স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, বন্ড মার্কেট শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বিনিয়োগে গুরুত্ব দেন তিনি।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কালো টাকার সুযোগ দেওয়ায় ১২ হাজার কোটি টাকা অর্থনীতিতে আসছে। কিন্তু এর ফলে নিরুত্সাহিত হয়ে কী পরিমাণ রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে, তা হিসাব করা এবং এর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর আগামী বাজেটে করোনার টিকাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে বাজেটে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই তা বাস্তবায়ন করা যায়।

আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমাদুল হাসান খসরু দেশে জিডিপির তুলনায় রাজস্বের হার কম হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

এ সময় ড. মসিউর রহমান কর ব্যবস্থায় সংস্কারে গুরুত্ব দেন। এছাড়া বাজেট বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের পরিবর্তে বিদেশি উত্স থেকে ঋণ নেওয়া, বাজেটে ঘাটতির হার ৫ শতাংশের ওপরে নেওয়া এবং অর্থায়নের লক্ষ্যে বিদেশি উত্স থেকে তহবিলের জোগান দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী শিক্ষা খাতে গুরুত্ব দেওয়া এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে করহার কমানোর প্রস্তাব দেন।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট সিদ্ধার্থ বড়ুয়া, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকনোমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মারিয়া হাওলাদার, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) প্রেসিডেন্ট রূপালী হক চৌধুরী, দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ বার্তা সম্পাদক শওকত হোসেন মাসুম, ইকনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি শারমিন রিনভী ও সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।