ইত্তেফাক রিপোর্ট
বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকটি এখনই আর কোনো ঋণ দিতে পারবে না। একই সঙ্গে ব্যাংকটিতে ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া শীর্ষ গ্রাহকদের ঋণ আদায়ে তদারকি জোরদার করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত সোমবার ন্যাশনাল ব্যাংককে এসব নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সাধারণত যখন কোনো ব্যাংক স্বাভাবিক নিয়মকানুন না মেনে নামে-বেনামে ঋণ বিতরণ করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করে না, তখন ঐ ব্যাংককে রক্ষা করতে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়োগ ও ঋণ বিতরণ বন্ধ করে দেয়। এর আগে বেসিক ব্যাংক ও সাবেক ফারমার্স (বর্তমানে পদ্মা) ব্যাংকের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
ন্যাশনাল ব্যাংকে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত ৮৭ শতাংশে না আসা পর্যন্ত কোনো ঋণ বিতরণ করতে পারবে না। বর্তমানে ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত ৯২ শতাংশ। ব্যাংকটির আমানত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা ও ঋণ ৪১ হাজার কোটি টাকা। ফলে ব্যাংকটিকে ঋণ দিতে হলে আমানতে বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি ঋণ আদায় আগের চেয়ে বাড়াতে হবে। যদিও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আমানত সংগ্রহে বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্যাংকটি। চিঠি অনুযায়ী, ব্যাংকটি যদি ঋণ-আমানত অনুপাত ৮৭ শতাংশে নামিয়ে এনে ঋণ দিতে চায়, তাহলেও ঋণে ১০ শতাংশের বেশি বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হতে পারবে না।
আর ব্যাংকটির জন্য বড় অঙ্কের ঋণ ও একক গ্রাহক ঋণসীমা নতুন করে নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, এর ৫ শতাংশ, অর্থাত্ ১৫৩ কোটি টাকা হবে বড় ঋণের সীমা। অন্যদিকে একক গ্রাহক ঋণসীমা হবে পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ বা ৩০৬ কোটি টাকা। এই সীমা নগদ ঋণ (ফান্ডেড) ও ঋণ-সুবিধা (নন-ফান্ডেড) ঋণসহ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকটি অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ঋণ অধিগ্রহণ বা কিনতে পারবে না।
পাশাপাশি শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার ঋণ আদায়ের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলো শীর্ষ খেলাপিদের থেকে ঋণ আদায়ের তথ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে শীর্ষ গ্রাহকদের তথ্য দিতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকের কয়েক জন পরিচালক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। এই কারণে ঋণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।