জিতল মোহামেডান, পারলেন না জামাল

  স্পোর্টস রিপোর্টার

প্রিমিয়ার লিগে সাইফ স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে প্রথম পর্বের প্রতিশোধটা এবার ভালোভাবেই নিয়েছে মোহামেডান। গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফিরতি লড়াইয়ে মোহামেডান ২-১ গোলে হারিয়েছে সাইফ স্পোর্টিংকে। জয়ের ব্যববধানটা আরো বড় হতে পারত। প্রথম গোলের আগে সুযোগ নষ্ট করা। গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরই দ্বিতীয় গোলের সুযোগ নষ্ট করা, অফসাইডে গোল বাতিল কিংবা পেনাল্টি পেয়েও রেফারির এড়িয়ে যাওয়া, সব হিসেব মিলিয়ে মোহামেডানের জয়টা আরেকটু বড় হতেও পারত। তার পরও ফিরতি পর্বের দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট পেয়ে টেবিলে সাইফকে টপকে ৫ নম্বরে দাঁড়িয়ে মোহামেডান, ২৫ পয়েন্ট নিয়ে।

মোহামেডানের ইংলিশ কোচ শন লেন অস্ট্রেলিয়া গেছেন এখনো ফেরেননি। তার বদলে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক দুই স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদ এবং ইমতিয়া আহমেদ নকিব। এই দুজনের পাশে দু-এক জন কর্মকর্তাও রয়েছেন। খুব একটা খারাপ চলছে না। আলফাজ-নকিব জুটি দুই ম্যাচে ৬ পয়েনট এনেছেন। এখন দলটা ভালো অবস্থা চলে আসছে।  

প্রথমার্ধে গোলের সুযোগগুলো নষ্ট করেন মোহামেডানের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা। বিশেষ করে সুলায়মান দিয়াবাতে পরীক্ষিত স্ট্রাইকার হওয়ার পরও তিনি সেভাবে জ্বলে উঠতে পারছিলেন না। সাইফের গোল মুখ হতে সহজ সুযোগ হেলায় হারিয়েছেন। দিয়াবাতের সঙ্গে ক্যামেরুনের ইয়াসান উয়াতচিং সুযোগ নষ্ট করেছেন। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় দ্বিতীয়ার্ধে।

প্রচণ্ড গরমে বিরতির পর ড্রেসিং রুম হতে মাঠে নেমে গোলের সুযোগও পেয়ে কাজে লাগিয়েছে মোহামেডান, ৫২ মিনিটে। ক্যামেরুনের ইয়াসান উয়াতচিং গোল করেন ১-০। এই গোলের পরও দুই বার সুযোগ নষ্ট করেছেন দিয়াবাতে এবং জাফর ইকবাল। এক জন আরেক জনের কাছে বল দেওয়া-নেওয়া করতে গিয়ে গোল সাইফের ডিফেন্ডাররা দেওয়াল তুলে দেয়।

কলকাতার ফুটবল শেষ করে ঘরেফেরা সাইফের অধিনায়ক জামাল ভুইয়া কাল মোহামেডানের বিপক্ষে ডিফেন্স চেড়া একটা নিখুঁত লংবল ফেলেছিলেন। সেই বলের উত্স থেকেই ৬৯ মিনিটে সাইফের মারাজ গোল করে সমতা আনেন ১-১। এর পরও মোহামেডান সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু টিভি রিপ্লেতে মনে হলে পেনাল্টি ছিল। মোহামেডানের দাবি এড়িয়ে যান রেফারি। ৮৪ মিনিটে মালির সুলায়মান দিয়াবাতে দারুণ গোল করেন। সাইফের বক্সে ঢুকে মাটি কামড়ানো ইনসুইং বলটা পোস্টের গোড়ায় লেগে সাইফের জালে জড়ায় ২-১। জয়টা নিশ্চিত হয়। দুই দলে দুই ভাই  গোল পোস্টে লড়াই করলেন। মোহামেডানে হোসেন সুজন, সাইফে পাপ্পু হোসেন। এক ভাই জিতল আরেক ভাই মন খারাপ করে করে বাড়ি ফিরল।