রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মের মতো কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের করা সব মামলা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে কিছুটা সময় লাগলেও জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আবার নিরাপরাধ কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে না।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরের ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অর্ধশতাধিক মামলার তদন্ত শেষ হচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, কোনো নিরপরাধ মানুষকে যাতে আইনের আওতায় আসতে না হয়—সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজ ও গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
শাপলা চত্বরের মতো ঘটনার পরিকল্পনা বা সক্ষমতা হেফাজতের রয়েছে কি না জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের কাজ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা। দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে যা যা করা দরকার তা আমরা করব। মামলার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিকভাবে চলবে সেটা হেফাজতের বিষয়। আমরা চাই না ফের শাপলা চত্বরের মতো ঘটনা ঘটুক। তবে কেউ যদি তাণ্ডব চালায়, জনগণের সম্পদ বিনষ্ট করে বা পুলিশ বা সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলা করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১৩ সালের সংশ্লিষ্ট মামলা থেকে অব্যাহতি ও গ্রেফতার বন্ধ রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠকের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে হাফিজ আক্তার বলেন, হেফাজত নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কী বলেছেন তা আমরা জানি না। তবে যারা জড়িত ছিলেন বা সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে শুধু তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা রয়েছে।
অতিরিক্ত কমিশনার আরো বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে ব্যাপক নাশকতা হয়। সেটাকে পুঁজি করে গুজব ছড়িয়ে চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, সিলেটসহ বেশ কটি জেলায় নাশকতা চালানো হয়। ভিডিও ফুটেজ দেখে যারা জড়িত ছিল তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা যারা নাশকতায় জড়িত ছিল, উসকানি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে। এসব ঘটনাতেও যাতে কোনো নিরাপরাধী যেন শাস্তি না পায় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।