টানা তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হলেন মমতা ব্যানার্জি। গতকাল বুধবার কলকাতার রাজভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে শপথ নেন তিনি। এরপরই মমতা পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে যান। সেখানে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে করোনা নিয়ন্ত্রণই তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই করোনায় ১১ হাজার ৮৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবারই মৃত্যু হয়েছে ১০৩ জনের। নতুন করে একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ৭৩ জন। গতকাল সকালে রাজভবনে ঐতিহাসিক থ্রোন কক্ষে তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মমতা ব্যনার্জি। তার দল গতবারের চেয়ে বেশি আসন পেয়ে এবার সরকার গড়ছে। মমতাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। স্বল্প পরিসরে আয়োজিত এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত তৃণমূলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা। তবে কোনো বিরোধী দলের নেতা উপস্থিত ছিলেন না।
আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার চার দফায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন নবনিযুক্ত প্রোটেম স্পিকার সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ৯ মে রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে রাজভবনেই। সূত্র জানায়, অনেক নতুন নেতা এবার জিতেছেন। তাদের মধ্যে থেকে কাদের নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনার জন্যই এই সময় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শপথ নেওয়ার পর নবান্নে গিয়ে করোনা মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপের কথা জানান মমতা। তিনি এই পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে লোকাল ট্রেন বন্ধ করার নির্দেশ দেন। মমতা জানান, এখনই লকডাউন দেওয়া হচ্ছে না। তবে বাস এবং মেট্রো রেল ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি, বেসরকারি অফিসেও ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করতে হবে। ব্যাংক খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। দিনে দুই ভাগে দোকান, বাজার খোলা থাকবে সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা। অভ্যন্তরীণ বিমানে কলকাতায় আসলেও থাকতে হবে কোভিড নেগেটিভ সনদ। আসার পর থাকতে হবে আইসোলেশনে। কোথাও ৫০ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। পাশাপাশি কোভিড-১৯ মোকাবেলার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ফল ঘোষণার তিনদিন পর প্রকাশ্যে এলেন শুভেন্দু অধিকারি। নন্দীগ্রামে জেতার সময় থেকেই তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বুধবার বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তর মুরলিধর সেন লেনে বিজেপি নেতারা দলের নেতা, কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ধর্নায় বসেন। সেখানে শুভেন্দু বলেন, ?ঠিকভাবে গণনা হলে সরকার না গড়তে পারলেও বিজেপি অন্তত ১০০ আসন পেত। পুনর্গণনার দাবি নিয়ে আমরা আদালতে যাব। সব ইভিএম আবার গণনা করতে হবে।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে হেরে যাওয়ার পর ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। গতকাল ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে নন্দীগ্রামে ভোট পুনর্গণনা হবে না।