রায়পুরে পদ্মায় ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা

এম আর সুমন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা

রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে এক সাপ্তাহ আগেই। দুই মাস পর নদীতে জাল, নৌকা, ট্রলার ও মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে নেমে পড়েছেন রায়পুরের প্রায় ৭ হাজার জেলে। ইলিশ শিকারের নেশায় মেঘনা নদীর এপার-ওপার দিনরাত পার করছেন তারা। এত কষ্টের পরও দেখা মিলছে না ইলিশের। তাই বিপাকে পড়েছেন এসব জেলে। ঈদের এই সময়ে পরিবারের খাবারের চিন্তা নিয়েই তাদের দিন কাটছে।

মত্স্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার নদী এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। এ জন্য ঐ এলাকায় সব ধরনের জাল ফেলা নিষিদ্ধ করে সরকার। মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় প্রশাসন ১ মার্চ থেকে মেঘনায় সব ধরনের জাল ফেলা বন্ধ করে দেয়। সরজমিনে রায়পুরের চার থেকে পাঁচটি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ না পড়ায় জেলেরা দুশ্চিন্তায় আছেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নেই সমাগম। জমে উঠছে না মত্স্যঘাট। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসলেও ইলিশ না ধরা পড়ায় খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে তাদের। বেড়ির মাথার কয়েক জন জেলে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে নদীতে মাছ ধরতে নামছি। প্রতিদিনই আমাদের সাড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু দিন-রাত জাল বেয়ে মাত্র তিন থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকার ইলিশ মাছ পাই। এমনিতেই তো আগের দেনায় জর্জরিত, তার ওপর আবার নতুন করে দেনায় পড়েছি।’

ঘাটের মালিক মনির মোল্লা বলেন, ‘জেলেরা প্রতিদিন নদীতে গিয়ে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে। মাছ না পাওয়ায় ঘাটে পাইকার আসে না। দুই একজন আসলেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। ঘাট এখনো জমে ওঠেনি। তাই এখন নদীতে মাছ না পাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য।’

এ ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘এ বছর এখনো বৃষ্টিপাত শুরু না হওয়ায় নদীতে ইলিশ মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। সামনে বৃষ্টিপাত হলে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। তবে আগামী এক সপ্তাহ কিংবা ১০ দিনের মধ্যে ইলিশ না পাওয়া গেলে বুঝতে হবে জলবায়ুগত সমস্যা রয়েছে।’